০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা “শাসকই ঘাতক!” অভিষেকের ওপর হামলায় গর্জন মমতার, একসুর খাড়গে-অখিলেশেরও, চক্রান্ত দেখছে সিপিএম
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

“শাসকই ঘাতক!” অভিষেকের ওপর হামলায় গর্জন মমতার, একসুর খাড়গে-অখিলেশেরও, চক্রান্ত দেখছে সিপিএম

Share
“শাসকই ঘাতক!” অভিষেকের ওপর হামলায় গর্জন মমতার, একসুর খাড়গে-অখিলেশেরও, চক্রান্ত দেখছে সিপিএম
ছবি--প্রতীকী
Share

সোনারপুর: সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় এবার তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকারকে সরাসরি নিশানা করে সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “শাসকই ঘাতকে পরিণত হয়েছে।” শুধু মমতাই নন, কলকাতার উপকণ্ঠে এই হামলার ঘটনায় একজোট হয়ে দিল্লির পদ্ম শিবিরকে আক্রমণ শানিয়েছে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের শরিক দলগুলিও। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে থেকে শুরু করে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব — প্রত্যেকেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করার পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন।

[TECHTARANGA-POST:9633]

শনিবার বিকেলে সোনারপুরের কামরাবাদে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়ি যাওয়ার পথে বিক্ষোভের মুখে পড়েন অভিষেক। গাড়ি ছেড়ে বাইকে ওঠার পরই বিক্ষোভকারীরা তাঁর ওপর চড়াও হয়ে এলোপাথাড়ি চড়-ঘুসি মারে বলে অভিযোগ। ছিঁড়ে দেওয়া হয় পরনের শার্ট, ভেঙে যায় চশমাও। এই ক্ষোভের হাত থেকে বাঁচতে শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট হেলমেট মাথায় দিয়ে সঞ্জুর বাড়ি পৌঁছন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।

এই ঘটনার পরই এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডেলে সরব হন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তিনি লেখেন, “অভিষেকের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার প্রমাণ করল যে তারা বিদ্বেষপূর্ণ, নেতিবাচক ও হিংসাত্মক রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না।” একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশের অনুপস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে একে ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দেন তিনি। 

[TECHTARANGA-POST:9631]

সুর চড়িয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে তিনি লেখেন, “বিরোধী নেতার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে পর্যাপ্ত পুলিশ সুরক্ষার অভাব বিজেপির প্রতিহিংসা ও নিপীড়নের রাজনীতির কথাই বলে দেয়।” খাড়গে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কাছে সমস্ত বিরোধী নেতার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় বিজেপি জড়িত নয় বলে ফের দাবি করেছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি সকলকে হিংসা বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “পুলিশ কেন ছিল না, সেটা তো আমি বলতে পারব না। আমি দলের প্রতিনিধি, সেটা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার বলতে পারবে।” যদিও, এরপরই তৃণমূলকে অতীতে শুভেন্দু অধিকারীর ওপর উত্তরবঙ্গে হওয়া হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শমীক খোঁচা দেন, “তৃণমূল আমাদের কর্মীদের ওপর যে অত্যাচার করেছে, আমরা সংযত ছিলাম বলেই আজ তৃণমূল অক্ষত আছে।”

[TECHTARANGA-POST:9628]

এই হামলার ঘটনা ‘কাম্য নয়’ বলে মন্তব্য করলেও তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি মনে করিয়ে দেন, “উনি (অভিষেক) শত শত পুলিশের প্রহরায় হুঙ্কার দিয়েছিলেন, কোন বাপ আছে দেখে নেবেন। সেটাও যেমন গণতন্ত্রে উচিত নয়, আজকের ঘটনাও কাম্য নয়।” তবে, এর পেছনে অন্য গন্ধ পাচ্ছেন সেলিম। তাঁর দাবি, “বিজেপি-আরএসএস চাইবে নানা কৌশলে তৃণমূলকে প্রচারের আলোয় রেখে দিতে। এটা তেমন কৌশল হলেও হয়ে থাকতে পারে।”

[TECHTARANGA-POST:9626]

সব মিলিয়ে, সোনারপুরের এই ঘটনার পর একদিকে যেমন জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে এককাট্টা হচ্ছে বিরোধীরা, অন্যদিকে তেমনই পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা ও রাজনৈতিক চালের অভিযোগে ফুটছে রাজ্য রাজনীতি।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *