০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা মহিলাদের থেকে টিকিট নিলেই বিপদ! বাসে আচমকা হানা দিয়ে এ কী করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা?
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গভ্রমণ

মহিলাদের থেকে টিকিট নিলেই বিপদ! বাসে আচমকা হানা দিয়ে এ কী করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা?

Share
মহিলাদের থেকে টিকিট নিলেই বিপদ! বাসে আচমকা হানা দিয়ে এ কী করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা?
ছবি সংগৃহীত
Share

কলকাতা: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি স্রেফ মুখের কথা নয়, তা যে বাস্তবেও অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হচ্ছে, সোমবার তারই প্রমাণ মিলল খোদ কলকাতার রাস্তায়। পয়লা জুন অর্থাৎ আজ থেকেই রাজ্য জুড়ে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য শুরু হয়েছে বিনামূল্যে সফর। কিন্তু সরকারি নির্দেশিকা খাতায়-কলমে আটকে নেই তো? বাসকর্মীরা সত্যিই মহিলাদের থেকে ভাড়া নেওয়া বন্ধ করেছেন তো? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর নিজের চোখে খতিয়ে দেখতে আজ আচমকাই মাঠে নেমে পড়লেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

[TECHTARANGA-POST:9673]

সোমবার দুপুরে গড়িয়াহাট মোড়ে তখন আর পাঁচটা দিনের মতোই ব্যস্ততা। গড়িয়াহাট থেকে রুবিগামী একটি সরকারি বাস সেখানে এসে দাঁড়াতেই চেনা ছন্দে যাত্রী তোলার জন্য হাঁকডাক শুরু করেছিলেন কনডাক্টর। কিন্তু তিনি কেন, বাসের বাকি যাত্রীদেরও ধারণার বাইরে ছিল যে পরের মুহূর্তেই কী ঘটতে চলেছে! কনডাক্টরের ডাক শুনেই হুড়মুড়িয়ে বাসে উঠে পড়েন খোদ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সঙ্গে সাংবাদিকদের ক্যামেরা এবং ভিড় দেখে প্রথমে কিছুটা থতমত খেয়ে যান বাসের কর্মী ও যাত্রীরা। তবে মুহূর্তের মধ্যেই সবার কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। নতুন সরকার গঠনের পর এটাই ছিল অন্যতম বড় ঘোষণা, আর তার বাস্তবায়নের প্রথম দিনেই সরাসরি ‘গ্রাউন্ড রিয়ালিটি’ যাচাই করতে বাসে চেপে বসেন মন্ত্রী।

[TECHTARANGA-POST:9664]

বাসে উঠেই সাধারণ যাত্রীদের মতোই ভিড় ঠেলে এগিয়ে যান অগ্নিমিত্রা পাল। সোজা চলে যান এক মহিলা যাত্রীর আসনের পাশে। তাঁর ঠিক পাশের সিটে বসেই মন্ত্রী হাসিমুখে প্রশ্ন করেন, ‘টিকিট কাটতে হচ্ছে না তো?’ সহযাত্রী মন্ত্রীকে অতটা কাছে পেয়ে এবং তাঁর মুখে এমন প্রশ্ন শুনে রীতিমতো চমকে যান ওই মহিলা। নিয়ম মেনে কাজ হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কনডাক্টরের কাছ থেকে নিজের জন্য একটি ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ও সংগ্রহ করেন মন্ত্রী। গড়িয়াহাট থেকে রুবি মোড় পর্যন্ত পুরো রাস্তাটাই তিনি সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে বাসে সফর করেন এবং তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।

[TECHTARANGA-POST:9672]

সফর শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানান, সরকার শুধু নির্দেশিকা জারি করেই নিজের দায়িত্ব শেষ করে দিতে পারে না। সেই নির্দেশ সাধারণ মানুষ আদৌ পাচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্বও সরকারেরই। তাঁর কথায়, ‘আজ যে বাংলার মায়েরা, বোনেরা উপকৃত হচ্ছেন, এটাই এই সরকারের আসল সার্থকতা। সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁদের কাছে প্রতিদিনের যাতায়াতে ৫০ বা ১০০ টাকা বাঁচানোটাও অনেক বড় ব্যাপার। তাঁরা এই সরকারি উদ্যোগে দারুণভাবে উপকৃত হবেন।’ মন্ত্রীর এই আচমকা পরিদর্শনে যেমন বাসের ভেতর শোরগোল পড়ে যায়, তেমনই ঘরের কাছের মানুষকে এভাবে পাশে পেয়ে এবং সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে হাততালি দিয়ে সাধুবাদ জানান বাসের মহিলা যাত্রীরা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *