০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ অপরাধ লাশ টুকরো করে পোড়ানোর নিদান দিল ইউটিউব! প্রেমিককে খুনের পর স্বামী-স্ত্রীর সার্চ হিস্ট্রি দেখে চোখ কপালে পুলিশের
অপরাধউত্তর প্রদেশভারতবর্ষ

লাশ টুকরো করে পোড়ানোর নিদান দিল ইউটিউব! প্রেমিককে খুনের পর স্বামী-স্ত্রীর সার্চ হিস্ট্রি দেখে চোখ কপালে পুলিশের

Share
লাশ টুকরো করে পোড়ানোর নিদান দিল ইউটিউব! প্রেমিককে খুনের পর স্বামী-স্ত্রীর সার্চ হিস্ট্রি দেখে চোখ কপালে পুলিশের
প্রতীকী ছবি
Share

লখনউ: পরকীয়া সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, আর তারপর ঠান্ডা মাথায় প্রমাণ লোপাটের জন্য গুগলের শরণাপন্ন ঘাতক দম্পতি! উত্তরপ্রদেশে ঘটে যাওয়া এক হাড়হিম করা অপরাধের তদন্তে নেমে এমনই এক ভয়ঙ্কর তথ্য হাতে পেয়েছে পুলিশ। স্বামীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রেমিককে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। তবে অপরাধের এখানেই শেষ নয়, খুনের পর ঘরের মধ্যে রক্তমাখা লাশ ফেলে রেখেই স্বামী-স্ত্রী মিলে ঠান্ডা মাথায় মোবাইল খুলে ইউটিউব ও গুগলে সার্চ করতে থাকেন, কীভাবে সমস্ত প্রমাণ নিশ্চিহ্ন করা যায়! এমনকি খুনের সাজা কেমন হতে পারে, জেলের ভেতরের জীবন কেমন বা মৃত্যুদণ্ড কীভাবে হয়— তা নিয়েও একাধিক ভিডিও গোগ্রাসে গিলেছে এই খুনি দম্পতি। শেষরক্ষা অবশ্য হয়নি, পুলিশের ম্যারাথন জেরার মুখে ভেঙে পড়ে নিজেদের ভয়ঙ্কর অপরাধ কবুল করে নিয়েছে দু’জনেই।

[TECHTARANGA-POST:9685]

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মে থেকে আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান বিজয় নিশাদ নামে এক যুবক। চারদিকে খোঁজাখুঁজির পর তিন দিন কেটে গেলেও বিজয়ের কোনো হদিস না মেলায় পুলিশের দ্বারস্থ হয় তাঁর পরিবার। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ নিখোঁজ যুবকের মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করতেই আসল রহস্যের জট ছাড়াতে শুরু করে। দেখা যায়, নিখোঁজ হওয়ার আগে বিজয়ের ফোনের শেষ লোকেশন ছিল কিরণ দেবী নামে এক মহিলার বাড়ির পাশে। এরপরই তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বিবাহিত কিরণের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বিজয়ের। কিন্তু এই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা কিরণের স্বামী কামতাপ্রসাদ নিশাদ জানতে পারতেই সংসারে আগুন জ্বলে ওঠে। ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বিজয়কে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ভয়ঙ্কর ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেন কামতাপ্রসাদ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন কিরণ ফোন করে বিজয়কে ফাঁকা বাড়িতে ডেকে পাঠান এবং তিনি পা রাখতেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে খুন করেন কামতাপ্রসাদ।

[TECHTARANGA-POST:9683]

হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর প্রমাণ খতম করতে ইন্টারনেটের সাহায্য নেয় এই দম্পতি। ইউটিউবের নৃশংস সব ভিডিও দেখে তারা সিদ্ধান্ত নেয় লাশটি পুড়িয়ে দেওয়ার। সেই মতো বিজয়ের মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে কেটে রাতের অন্ধকারে দূরের এক নির্জন জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেয় তারা। তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে এবং বিজয়ের পরিচয় গোপন রাখতে তাঁর জুতো, এটিএম কার্ড এবং প্যান কার্ড শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আলাদা আলাদা জায়গায় ফেলে আসে। কিন্তু অপরাধ করে যে পার পাওয়া যায় না, তা আরও একবার প্রমাণ করল পুলিশ। কিরণ ও কামতাপ্রসাদকে আটক করে একটু চাপ দিতেই থলিবিল থেকে বেড়াল বেরিয়ে আসে। ধৃতদের দেখানো জায়গা থেকেই বিজয়ের দেহাংশ, মোবাইলের ভাঙা অংশ, পোড়া পোশাকের টুকরো, একটি মোটরসাইকেল এবং খুনে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। ইন্টারনেট ঘেঁটে পারফেক্ট ক্রাইমের ছক কষেও শেষমেশ শ্রীঘরেই ঠাঁই হলো এই ঘাতক দম্পতির।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *