০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ ‘মায়ের শরীর খারাপ’ নাকি আসল কারণ অন্য? সোনামুখীর তৃণমূল পুরপ্রধান সন্তোষের আকস্মিক পদত্যাগে ছড়াল তীব্র চাঞ্চল্য!
পশ্চিমবঙ্গ

‘মায়ের শরীর খারাপ’ নাকি আসল কারণ অন্য? সোনামুখীর তৃণমূল পুরপ্রধান সন্তোষের আকস্মিক পদত্যাগে ছড়াল তীব্র চাঞ্চল্য!

Share
‘মায়ের শরীর খারাপ’ নাকি আসল কারণ অন্য? সোনামুখীর তৃণমূল পুরপ্রধান সন্তোষের আকস্মিক পদত্যাগে ছড়াল তীব্র চাঞ্চল্য!
ছবি সংগৃহীত
Share

সোনামুখী: বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূল পরিচালিত একের পর এক পুরসভা ও পঞ্চায়েতে যে ধস নামা শুরু হয়েছিল, তা যেন থামার নামই নিচ্ছে না। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো বাঁকুড়ার সোনামুখী পুরসভা। শুক্রবার সকালে বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসকের দপ্তরে গিয়ে আচমকাই নিজের ইস্তফাপত্র জমা দিলেন সোনামুখী পুরসভার হেভিওয়েট তৃণমূল চেয়ারম্যান সন্তোষ মুখোপাধ্যায়। পুর আইন মেনে পদত্যাগপত্রের একটি করে প্রতিলিপি তিনি পুরসভার বোর্ড অফ কাউন্সিলের কাছেও পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে পুরপ্রধানের পদ ছাড়লেও কাউন্সিলর পদ থেকে তিনি এখনই সরছেন না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন। আপাতদৃষ্টিতে মায়ের অসুস্থতার কথা বলে তিনি পদত্যাগ করলেও, এর নেপথ্যে বিজেপির ঝোড়ো হাওয়া এবং রাজনৈতিক চাপ কাজ করছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

[TECHTARANGA-POST:9898]

রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই চারদিকে তৃণমূলের পুরপ্রধান ও পঞ্চায়েত প্রধানদের ইস্তফা দেওয়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। সোনামুখীর পুরপ্রধান সন্তোষ মুখোপাধ্যায় অবশ্য তাঁর ইস্তফাপত্রে ব্যক্তিগত কারণ এবং মায়ের গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কথাই উল্লেখ করেছেন। তবে শুক্রবার পদত্যাগের পর তাঁর নিজের মুখেই শোনা গেল অন্য সুর। তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “গোটা রাজ্যের মানুষ বিধানসভা নির্বাচনে যে ঐতিহাসিক জনাদেশ দিয়েছে, আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সেই গণরায়কে মাথা পেতে সম্মান জানালাম। পাশাপাশি আমার মা প্রচণ্ড অসুস্থ, তাঁকে সময় দেওয়া দরকার। এবার আমি আমার নিজের পুরনো পেশাতেও ফিরে যেতে চাই।” সন্তোষবাবু আরও যোগ করেন যে, পুরপ্রধান পদ ছাড়লেও সোনামুখী পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে তিনি নিজের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত কাজ করে যাবেন।

[TECHTARANGA-POST:9899]

তৃণমূল পুরপ্রধানের এই ‘মায়ের অসুস্থতা’র তত্ত্বকে অবশ্য বিন্দুমাত্র আমল দিতে নারাজ গেরুয়া শিবির। সোনামুখীর এই রাজনৈতিক ডামাডোল নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপির সোনামুখী নগর মণ্ডলের সভাপতি গিরিশঙ্কর অধিকারী। তিনি সরাসরি তোপ দেগে বলেন, “আমরা সোনামুখীর মানুষের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে খোদ পুরপ্রধানকে সমস্ত রকম সহযোগিতার পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছিলাম। এমনকি আমাদের বিধায়কও তাঁকে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু সব জানা সত্ত্বেও এই পদত্যাগ আসলে একথাই প্রমাণ করছে যে তিনি পুরসভা চালাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।” বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, হারের পর তৃণমূলের অন্দরে যে চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং হতাশা তৈরি হয়েছে, তার জেরেই মুখ লুকাতে পদ ছাড়ছেন নেতারা।

[TECHTARANGA-POST:9895]

সদ্য প্রাক্তন হওয়া এই পুরপ্রধানের আকস্মিক চলে যাওয়ার পর সোনামুখী পুরসভার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল জমানায় স্থবির হয়ে পড়া শহরের যাবতীয় পরিকাঠামো ও উন্নয়নের কাজ সচল রাখাটাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। আর সেই কারণে পুরবোর্ডের বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে দ্রুত এখানে একজন সরকারি প্রশাসক (Administrator) বসানো হতে পারে। সোনামুখী শহরের আমজনতার স্বার্থে সমস্ত থমকে থাকা নাগরিক পরিষেবা যাতে দ্রুত চালু করা যায়, নতুন সরকার এখন সেই পথেই হাঁটতে চলেছে। সব মিলিয়ে, সন্তোষ মুখোপাধ্যায়ের এই পদত্যাগ বাঁকুড়ার রাজনৈতিক সমীকরণকে যে আরও জটিল করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *