০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা চাকরি হারিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই কাটছিল দিন, হঠাৎই সব শেষ!, সিঁথি থানায় খুনের বিস্ফোরক অভিযোগ
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

চাকরি হারিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই কাটছিল দিন, হঠাৎই সব শেষ!, সিঁথি থানায় খুনের বিস্ফোরক অভিযোগ

Share
চাকরি হারিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই কাটছিল দিন, হঠাৎই সব শেষ!, সিঁথি থানায় খুনের বিস্ফোরক অভিযোগ
প্রতীকী ছবি
Share

কলকাতা: শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে জামাইয়ের রহস্যমৃত্যু এবং তার পরেই নিজের পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে তড়িঘড়ি মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলার এক হাড়হিম করা ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর কলকাতায়। নিজের পুত্রবধূ দেবিকা সাহার বিরুদ্ধে ছেলেকে নির্মম শারীরিক অত্যাচার ও সুপরিকল্পিতভাবে খুন করার মারাত্মক অভিযোগ এনে সিঁথি থানায় দ্বারস্থ হয়েছেন এক বৃদ্ধ পিতা। তাঁর আরও অভিযোগ, খুনের প্রমাণ চিরতরে লোপাট করে দিতেই স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা চক্রবর্তী পরিবারকে বিন্দুমাত্র জানতে না দিয়ে চুপিচুপি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে সৎকার সম্পন্ন করেছে। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই খুন ও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের মামলা রুজু করে এক রহস্যময় তদন্তে নেমেছে।

[TECHTARANGA-POST:9904]

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম শুভাশিস চক্রবর্তী, বয়স ৪৩ বছর। পেশায় ওষুধ সংস্থার একসময়ের মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ শুভাশিসবাবু গত প্রায় ৭ বছর ধরে সিঁথি থানা এলাকার সাঁতরাপাড়া লেন এলাকায় স্ত্রী দেবিকা সাহার সঙ্গে তাঁর বাপের বাড়িতেই অর্থাৎ নিজের শ্বশুরবাড়িতে থাকছিলেন। কোভিড মহামারীর চরম সংকটের সময়ে চাকরি চলে যাওয়ার পর থেকেই তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি, যার জেরে পরবর্তীতে তাঁর শরীরে একাধিক জটিল স্নায়ুঘটিত সমস্যা দেখা দেয়। গত ১০-১৫ দিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি হলে স্থানীয় এক চিকিৎসককে ডাকা হয়, যিনি শুভাশিসবাবুর রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার কথা জানিয়ে তাঁকে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে তাঁকে হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়নি। তদন্তে উঠে এসেছে, গত ১০ জুন সকালে খাবার খাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়েন শুভাশিসবাবু। পরবর্তীতে স্ত্রী দেবিকা ডাকলেও তিনি আর সাড়া দেননি এবং চিকিৎসক এসে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

[TECHTARANGA-POST:9903]

অভিযোগ, স্বামী মারা যাওয়ার পর দেবিকা সাহা তাঁর শ্বশুরবাড়ির কোনো সদস্য বা শুভাশিসবাবুর বৃদ্ধ পিতাকে বিন্দুমাত্র খবর দেননি। উল্টে অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে উত্তর কলকাতার রতনবাবু ঘাটে নিয়ে গিয়ে শুভাশিসবাবুর শেষকৃত্য সম্পন্ন করে ফেলা হয়। পুলিশি তদন্তে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে যে, এই তড়িঘড়ি সৎকার প্রক্রিয়ার সময় স্থানীয় একটি ওষুধের দোকান, ‘স্নেহা মেডিক্যাল’-এর বেশ কয়েকজন কর্মী দেবিকাকে সমস্ত রকম সাহায্য করেছিলেন। পরিবারের লোকেদের অনুপস্থিতিতে একটি মৃতদেহ এভাবে পুড়িয়ে ফেলার পেছনে ঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল, তা নিয়েই এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9900]

ছেলের সৎকার হয়ে যাওয়ার পর গোটা ঘটনা জানতে পেরে আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে সিঁথি থানার দ্বারস্থ হন মৃত শুভাশিসের বাবা। তাঁর লিখিত অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১) এবং ২৩৮(এ) ধারা, অর্থাৎ সরাসরি খুন এবং অপরাধের তথ্যপ্রমাণ সম্পূর্ণ লোপাট করার জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করেছে। ইতিমধ্যেই ওই বাড়ির যে ঘরে শুভাশিসবাবু শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন, সেই ঘরটি সিল করে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা রাসায়নিক ও অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করছেন। খুনের আসল মোটিভ কী, এর পেছনে কোনো বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক নাকি সম্পত্তির লোভ কাজ করছিল, তা জানতে স্ত্রী দেবিকা সাহা এবং ওই স্ন্যাপড ফার্মেসির কর্মীদের কড়া জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সিঁথি থানার পুলিশ।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *