০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ লুক বদলাতে কামালেন গোঁফ, পালালেন কেরলে! কোটি কোটি টাকার ‘গ্রিন সিটি’ কেলেঙ্কারিতে অবশেষে ধরা পড়লেন তৃণমূলের প্রাক্তন পুরপ্রধান!
পশ্চিমবঙ্গ

লুক বদলাতে কামালেন গোঁফ, পালালেন কেরলে! কোটি কোটি টাকার ‘গ্রিন সিটি’ কেলেঙ্কারিতে অবশেষে ধরা পড়লেন তৃণমূলের প্রাক্তন পুরপ্রধান!

Share
লুক বদলাতে কামালেন গোঁফ, পালালেন কেরলে! কোটি কোটি টাকার ‘গ্রিন সিটি’ কেলেঙ্কারিতে অবশেষে ধরা পড়লেন তৃণমূলের প্রাক্তন পুরপ্রধান!
Share

আরামবাগ: পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে নিজের চেনা লুক বদলে কেটে ফেলেছিলেন সাধের গোঁফ। আরামবাগ ছেড়ে সোজা পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন সুদূর কেরলে। কিন্তু ছদ্মবেশ ধরেও শেষরক্ষা হলো না। গ্রিন সিটি মিশন প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা নয়-ছয়ের অভিযোগে অবশেষে কেরল থেকেই গ্রেপ্তার করা হলো আরামবাগ পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান স্বপন নন্দীকে। আরামবাগ থানার পুলিশের একটি বিশেষ দল গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে হানা দিয়ে তাঁকে পাকড়াও করে। বর্তমানে ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই হাইপ্রোফাইল দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই পুরসভার এক অস্থায়ী ইঞ্জিনিয়ার মানস কুণ্ডু, অস্থায়ী ইলেকট্রিক সুপারভাইজার কৌস্তুভ মুখোপাধ্যায় এবং এক ঠিকাদারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এবার এই চক্রের মূল পান্ডা প্রাক্তন পুরপ্রধানকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চান তদন্তকারীরা।

[TECHTARANGA-POST:9934]

প্রসঙ্গত, ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে আরামবাগ পুরসভার গ্রিন সিটি প্রকল্পের আওতায় সোলার বিদ্যুৎ প্যানেল বসানোর জন্য একটি ই-টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। পুর এলাকার ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশুশিক্ষা কেন্দ্র এবং ১১টি উচ্চ প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর কাজ শুরু হয়। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৬৪.৪৬ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা, যা দিয়ে স্কুলগুলির পাশাপাশি আরামবাগ পুরসভার স্ট্রিট লাইট জ্বালানো হবে। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, এই পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের নাম করে তৎকালীন পুরবোর্ড, পুরসভার কিছু প্রভাবশালী কর্মী এবং তৎকালীন পুরপ্রধান স্বপন নন্দীর যোগসাজশে কোটি কোটি টাকার সরকারি তহবিল তছরুপ করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্বপনকে পুরপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় তৃণমূল নেতা সমীর ভান্ডারীকে। সমীরবাবু নিজেই আরামবাগ থানায় এই বিপুল দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, যদিও রাজনৈতিক কারণে সেই সময় তদন্তের গতি থমকে ছিল।

[TECHTARANGA-POST:9915]

পদ খোয়ালেও স্বপন নন্দী ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন এবং তৃণমূলের পুরনো রাজ্য কমিটির রাজ্য সম্পাদক পদেও তাঁর ভালোই দাপট ছিল। তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই এবং ভোটের ফল প্রকাশের পর বেগতিক বুঝে আরামবাগ ছাড়েন তিনি। এতদিন পলাতক থাকার পর পুলিশ পুরনো মামলার ফাইল খুলতেই একের পর এক তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখনই জানা যায়, পুলিশের নজর এড়াতে স্বপন নন্দী নিজের পরিচয় ও চেহারা গোপন করতে গোঁফ কামিয়ে ভোলবদল করেছিলেন। কিন্তু পুলিশের জালে তাঁর এই নিখুঁত ছদ্মবেশও শেষ পর্যন্ত ধোপে টেকেনি। প্রাক্তন পুরপ্রধানের এই নাটকীয় গ্রেপ্তারি ঘিরে এখন তোলপাড় আরামবাগ তথা রাজ্য রাজনীতি।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *