০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা অর্থনীতি মাথার দাম ১০ লাখ! ৪৬ রাউন্ড গুলি ও বন্দুক হাতে খোদ লালবাজারে এসে এ কী করলেন কুখ্যাত মাও নেত্রী পুষ্পা?
অর্থনীতিকলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

মাথার দাম ১০ লাখ! ৪৬ রাউন্ড গুলি ও বন্দুক হাতে খোদ লালবাজারে এসে এ কী করলেন কুখ্যাত মাও নেত্রী পুষ্পা?

Share
মাথার দাম ১০ লাখ! ৪৬ রাউন্ড গুলি ও বন্দুক হাতে খোদ লালবাজারে এসে এ কী করলেন কুখ্যাত মাও নেত্রী পুষ্পা?
ছবি সংগৃহীত
Share

কলকাতা: খাস কলকাতায় বুধবার সকালে ঘটে গেল এক চরম নাটকীয় ঘটনা, যা দেখে রীতিমতো তাজ্জব পুলিশকর্তারাও। একদা জঙ্গলমহল থেকে শুরু করে ঝাড়খণ্ডের সারান্ডার জঙ্গলের ত্রাস, শীর্ষ মাওবাদী নেত্রী শকুন্তলা মাহাতো ওরফে পুষ্পা আচমকাই হাজির হলেন লালবাজারে। 

[TECHTARANGA-POST:10018]

তবে কোনও হামলা চালাতে নয়, বরং নিজের সঙ্গে থাকা ৪৬ রাউন্ড তাজা গুলি ও অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে আত্মসমর্পণ করলেন সিপিআই (মাওবাদী)-র জোনাল কমিটির এই দুঁদে সদস্য। যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের জেরে বেশ কিছুদিন ধরেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। যাঁর মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ১০ লক্ষ টাকা, সেই হেভিওয়েট মাও নেত্রীর এমন নিঃশর্ত আত্মসমর্পণকে কলকাতা পুলিশের এক মস্ত বড় সাফল্য বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

[TECHTARANGA-POST:10033]

অস্ত্র জমা দিয়ে এক সময়ের এই ডাকসাইটে স্কোয়াড লিডার সমাজের মূল স্রোতে ফেরার বার্তা দিয়েছেন। লালবাজারে দাঁড়িয়ে পুষ্পা তাঁর প্রাক্তন কমরেডদের উদ্দেশে বলেন যে, যাঁরা এখনও দলছুট বা বিচ্ছিন্ন হয়ে জঙ্গলে আছেন, তাঁরা যেন হিংসার পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। বর্তমান সরকারের নানাবিধ উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসা করে তিনি স্পষ্ট জানান, অস্ত্র ছেড়ে দেশের ও দশের সার্বিক উন্নয়নে শামিল হওয়াই এখন সকলের জন্য সবচেয়ে মঙ্গলের। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মাওবাদী-মুক্ত ভারতের লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে জঙ্গলমহল ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তে যেভাবে যৌথ বাহিনীর চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে, তারই ফলশ্রুতি হিসেবে পুষ্পার এই মতাদর্শগত ও মানসিক পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে।

‘পার্টি অফিস গেছে, পার্টিও গেছে; এবার শুরু হবে ED-CBI-CID প্যারেড’— বিস্ফোরক দাবি দিলীপ ঘোষের

ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি থানার মেছুয়া গ্রামের সাধারণ মেয়ে শকুন্তলা, যাকে বাড়ির লোক ‘লুটুন’ বলে ডাকত, তার মাওবাদী স্কোয়াডে যোগ দেওয়া মাত্র ১০ বছর বয়সে। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই নকশালদের গান-বাজনার দলে ভিড়ে গিয়ে একসময় সমাজ বদলানোর স্বপ্নে বিভোর হয়ে সে হাতে তুলে নেয় বন্দুক। 

[TECHTARANGA-POST:10030]

এরপর পুষ্পা, পরি, বর্ষা— এমন হরেক নামে কুখ্যাতি ছড়ায় জঙ্গলমহলে। বাম জমানার উত্তাল দিনগুলিতে লালগড় আন্দোলনে খোদ কিষাণজির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন তিনি। ২০০৫ সালে আর এক মাও কমান্ডার অতুল মাহাতোর সঙ্গে তাঁর বিয়েও হয় জঙ্গলের গোপন আস্তানায়। দলমা, ঘাটশিলা, পারশনাথ পাহাড় থেকে সারান্ডার জঙ্গল— গত দু’দশকে এমন কোনও বড় মাওবাদী অভিযান নেই যাঁর মাস্টারমাইন্ড ছিলেন না এই নেত্রী। অবশেষে জঙ্গল দাপানো সেই ‘লুটুন’ ওরফে পুষ্পার অস্ত্রত্যাগের পর জঙ্গলমহলে মাওবাদী কার্যকলাপের কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতা হয়ে গেল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *