০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা ১৬৩ ধারা উড়িয়েই ধর্মতলায় একুশের সমাবেশ! ‘প্রয়োজনে থানায় যাব’, নতুন সরকারকে খোলা চ্যালেঞ্জ দোলা সেনের
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

১৬৩ ধারা উড়িয়েই ধর্মতলায় একুশের সমাবেশ! ‘প্রয়োজনে থানায় যাব’, নতুন সরকারকে খোলা চ্যালেঞ্জ দোলা সেনের

Share
১৬৩ ধারা উড়িয়েই ধর্মতলায় একুশের সমাবেশ! ‘প্রয়োজনে থানায় যাব’, নতুন সরকারকে খোলা চ্যালেঞ্জ দোলা সেনের
ছবি--প্রতীকী
Share

কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার ঐতিহ্যবাহী একুশে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশকে কেন্দ্র করে চরম সংঘাতের আবহ তৈরি হলো নবান্ন ও কালীঘাটের মধ্যে। ২ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত মধ্য কলকাতার ধর্মতলাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতায় ১৬৩ নম্বর ধারা (পূর্বতন ১৪৪ ধারা) জারি করার কথা ঘোষণা করেছে নবগঠিত সরকার।

নতুন সরকারকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে কী বললেন দোলা সেন?

 সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিন ওই চত্বরে ৫ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, সভা কিংবা বিক্ষোভ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে যখন মনে করা হচ্ছিল যে তৃণমূলের ঐতিহাসিক একুশের সমাবেশ এবার কার্যত ভেস্তে যেতে চলেছে, ঠিক তখনই আসরে নেমে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কোনো সরকারি নিষেধাজ্ঞা বা ১৬৩ ধারা মেনে একুশের সমাবেশ আটকানো যাবে না।

[TECHTARANGA-POST:10481]

এদিন ডক্টরস ডে উপলক্ষে একটি রক্তদান শিবিরে যোগ দিতে দুর্গাপুরে গিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন। সেখানে যাওয়ার পথে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি সমর্থকদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে, ওঠে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও। এই ঘটনার পরেই সরকারের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে একুশের প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন দোলা। তিনি বলেন, “আইন, বিচার ব্যবস্থা ও পুলিশ প্রশাসনের ওপর আমাদের সম্পূর্ণ ভরসা আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গত ৩৩ বছর ধরে যেভাবে ২১শে জুলাইয়ের শহিদ তর্পণ কর্মসূচি হয়ে আসছে, এবছরও ঠিক সেভাবেই তা পালিত হবে।” ধর্মতলায় এই জমায়েত নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘তুঘলকি শাসন’ বলে কটাক্ষ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “আমাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মামলা করা হয়েছে, প্রয়োজনে আমরা আবার থানায় যাব, কিন্তু কর্মসূচি হবেই।”

[TECHTARANGA-POST:10467]

আসন্ন একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘিরে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যেই এখন তীব্র দড়ি টানাটানি চলছে। দুই পক্ষই নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে পুলিশের কাছে সমাবেশের অনুমতিপত্র পাঠিয়েছে। তবে উত্তর কলকাতায় এক প্রস্তুতি সভায় কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রেখেছিলেন, “দরকার হলে ৫ জন লোক নিয়ে হলেও ধর্মতলায় যাব।” নেত্রীর সেই অনড় মনোভাবকে সঙ্গী করেই কালীঘাট তৃণমূলের তরফ থেকে পুলিশে আবেদন পাঠানো হয়েছে। 

[TECHTARANGA-POST:10458]

এমনকি দিনকয়েক আগে ধর্মতলায় মঞ্চ বাঁধার জন্য রাস্তা মাপজোক করতে গিয়ে কুণাল ঘোষ, দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়দের বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় মামলাও রুজু হয়েছিল। সরকারি নির্দেশিকা জারি হওয়ার পরেও যেভাবে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ নাছোড়বান্দা মনোভাব দেখাচ্ছে, তাতে ছাব্বিশের ভোটের পর এই ‘একুশ-উৎসব’ পালনকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে আইন-শৃঙ্খলার জল কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *