০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা বাচ্ছাদের মিডডে মিলের মাংস দিয়ে স্কুলে স্যারের ম্যারেজ অ্যানিভার্সারি!
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

বাচ্ছাদের মিডডে মিলের মাংস দিয়ে স্কুলে স্যারের ম্যারেজ অ্যানিভার্সারি!

Share
বাচ্ছাদের মিডডে মিলের মাংস দিয়ে স্কুলে স্যারের ম্যারেজ অ্যানিভার্সারি!
ছবি সংগৃহীত
Share

নদিয়া: খুদে পড়ুয়াদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে স্কুলের ভেতরেই চলল শিক্ষকের বিবাহবার্ষিকী পালনের এলাহি তোড়জোড়! সরকারি স্কুলের মিডডে মিলের মাংস ও অন্যান্য খাবার চুরি করে উৎসব করার এই মারাত্মক অভিযোগে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল নদিয়ার শান্তিপুরের নতুন পাড়া জনকল্যাণ বুনিয়াদি শিক্ষালয়। খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শান্তিপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুলের শিক্ষক এবং মিডডে মিলের রান্নার কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি যেমন প্রকাশ্যে এসেছে, তেমনই নিজেদের সন্তানদের পুষ্টির অধিকার হরণ হতে দেখে স্কুলের গেটে আছড়ে পড়ে অভিভাবকদের তীব্র বিক্ষোভ।

[TECHTARANGA-POST:10549]

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ওই বিদ্যালয়ে এক শিক্ষকের বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষিকারা। রাঁধুনিদের বিস্ফোরক অভিযোগ, সকাল হতেই তাঁদের ওপর নির্দেশ আসে মিডডে মিলের জন্য বরাদ্দ মাংসের একটি বড় অংশ আলাদা করে সরিয়ে রাখার জন্য, যা দিয়ে দিদিমণিরা নিজেদের উৎসবের জন্য বিশেষ পদ রান্না করবেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। রান্না কর্মীরা বেঁকে বসলে শিক্ষকদের সাথে তাঁদের তুমুল অশান্তি শুরু হয়। খবর জানাজানি হতেই স্কুলের বাইরে ভিড় জমান অভিভাবক ও ক্ষুব্ধ প্রতিবেশীরা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এই স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের সঠিক পরিমাণে ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয় না এবং প্রায়শই স্কুলের চাল ও মাংস বাইরে পাচার করে দেওয়া হয়।

[TECHTARANGA-POST:10546]

চুরি ও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান পালনের এই মারাত্মক অভিযোগ অবশ্য পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা অনামিকা সাহা। স্কুলে উৎসবের কথা স্বীকার করে নিলেও তাঁর দাবি, এই রান্নার জন্য শিক্ষকরা নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে বাজার থেকে আলাদা মাংস কিনে এনেছিলেন। উল্টে মিডডে মিল কর্মীরাই প্রতিদিন বাচ্চাদের খাবার চুরি করে বাড়ি নিয়ে যান বলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন। যদিও স্কুলের মতো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কীভাবে শিক্ষকের ব্যক্তিগত ম্যারেজ অ্যানিভার্সারি পালিত হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।

[TECHTARANGA-POST:10543]

উল্লেখ্য, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এবারের বাজেটে সরকারি স্কুলের মিডডে মিলের বরাদ্দ বৃদ্ধি করে তা বণ্টনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘ইসকন’-কে। ইসকনের প্রথা অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার দেওয়া নিয়ে যখন রাজ্য জুড়ে ডিম বন্ধের পুষ্টি-বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক তখনই শান্তিপুরের এই ঘটনা মিডডে মিলের সামগ্রিক পরিকাঠামো ও নজরদারির অভাবকে আরও একবার নগ্ন করে দিল।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *