০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home উত্তর প্রদেশ অপরাধ ক্ষীরে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামীকে খুন, তারপর বাথরুমে লাশ পুঁতে বসানো হলো টাইলস! আগ্রা কাণ্ডে হাড়হিম করা কবুলনামা স্ত্রীর
অপরাধআইন-কানুনউত্তর প্রদেশ

ক্ষীরে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামীকে খুন, তারপর বাথরুমে লাশ পুঁতে বসানো হলো টাইলস! আগ্রা কাণ্ডে হাড়হিম করা কবুলনামা স্ত্রীর

Share
ক্ষীরে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামীকে খুন, তারপর বাথরুমে লাশ পুঁতে বসানো হলো টাইলস! আগ্রা কাণ্ডে হাড়হিম করা কবুলনামা স্ত্রীর
ছবি সংগৃহীত
Share

আগ্রা: উত্তরপ্রদেশের আগ্রার এক আবাসনের বাথরুমের মেঝে খুঁড়ে নিখোঁজ ব্যক্তির পচাগলা দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এবার সামনে এলো এক হাড়হিম করা সত্য। মৃত সুরেন্দ্রকুমার শর্মার স্ত্রী রুবিকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশের হাতে এসেছে এমন কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা শুনে স্তম্ভিত দুঁদে গোয়েন্দারাও। পুলিশি জেরার মুখে রুবি শেষ পর্যন্ত স্বীকার করে নিয়েছেন যে, তিনিই অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় নিজের স্বামীকে খুন করে বাথরুমের মেঝের নিচে পুঁতে রেখেছিলেন। শুধু তাই নয়, অপরাধ ঢাকতে এবং মেঝের নিচের সেই গোপন কবরকে চিরতরে আড়াল করতে এক রাজমিস্ত্রিকে ডেকে এনে বাথরুমে নতুন করে প্লাস্টার করিয়ে তার ওপর চকমকে টাইলসও বসিয়ে দেন ওই মহিলা।

[TECHTARANGA-POST:10624]

তদন্তকারীদের রুবি জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী সুরেন্দ্রকুমার শর্মা ক্ষীর খেতে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। ঘটনার দিন রাতে সুরেন্দ্রর জন্য নিজের হাতে ক্ষীর তৈরি করেন রুবি, তবে তার মধ্যে গোপনে মিশিয়ে দেন একগাদা কড়া ঘুমের ওষুধ। সেই ক্ষীর খাওয়ার পর সুরেন্দ্র অচৈতন্য হয়ে পড়লে ঘুমের মাঝেই অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাঁকে খুন করেন রুবি। এখানেই শেষ নয়, খুনের পর প্রমাণ লোপাট করতে প্রথমে স্বামীর নিথর দেহটি ঘরের একটি কোণে লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি। এরপর গভীর রাতে পরিবারের বাকি সদস্যরা যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন সবার নজর এড়িয়ে রুবি একাই ভারী দেহটি টেনেহিঁচড়ে বাথরুমে নিয়ে যান এবং মেঝের মাটি খুঁড়ে সেখানে লাশটি ঢুকিয়ে মাটি চাপা দিয়ে দেন।

[TECHTARANGA-POST:10611]

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ওই বাথরুমে কাজ করা রাজমিস্ত্রিকেও দফায় দফায় জেরা করেছে। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই রাজমিস্ত্রি দাবি করেছেন যে তিনি পাশের একটি বাড়িতে কাজ করার সময় রুবি তাঁকে ডেকে বাথরুম মেরামত করার কথা বলেন। মিস্ত্রি যখন কাজ খতিয়ে দেখতে যান, তখন তিনি অবাক হয়ে দেখেন রুবি নিজেই বাথরুমের মেঝেতে মাটি ভরাট করছেন। মিস্ত্রি সাহায্য করতে চাইলে রুবি স্পষ্ট বারণ করে দেন এবং জানান তিনি একাই সবটা করে নিতে পারবেন। এরপর ৪ বাই ৬ ফুটের সেই নিচু বাথরুমের মেঝেটি ভরাট করে উঁচু করা হয় এবং রাজমিস্ত্রিকে দিয়ে সিমেন্টের প্লাস্টার করিয়ে চকমকে টাইলস বসিয়ে দেওয়া হয়। মেঝের ঠিক নিচেই যে গৃহকর্তার লাশ চাপা দেওয়া রয়েছে, তা বিন্দুমাত্র টের পাননি ওই রাজমিস্ত্রি।

[TECHTARANGA-POST:10623]

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সুরেন্দ্রকুমার শর্মা প্রতিদিন চরম মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরতেন এবং তা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে রোজকার অশান্তি লেগেই থাকত। সেই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও মানসিক যন্ত্রণা থেকেই রুবি স্বামীকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার এই ভয়ংকর ও নারকীয় ছক কষেছিলেন। শুক্রবার রুবির দেখানো সূত্র ধরেই বাথরুমের সেই নতুন বসানো টাইলস ও মেঝে খুঁড়ে সুরেন্দ্রের বিকৃত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় রুবির সাথে অন্য কেউ জড়িয়ে রয়েছে কি না, তা জানতে রুবির পাশাপাশি ওই রাজমিস্ত্রি এবং পরিবারের অন্য সদস্যদেরও কড়া নজরদারিতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে আগ্রা থানার পুলিশ।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *