০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ অপরাধ ১০ কোটির সম্পত্তি আর চাকরির লোভ! ভাড়াটে খুনি দিয়ে মাকে গাড়ি-চাপা দিলেন কন্যা
অপরাধআইন-কানুনভারতবর্ষভারতবর্ষ

১০ কোটির সম্পত্তি আর চাকরির লোভ! ভাড়াটে খুনি দিয়ে মাকে গাড়ি-চাপা দিলেন কন্যা

Share
১০ কোটির সম্পত্তি আর চাকরির লোভ! ভাড়াটে খুনি দিয়ে মাকে গাড়ি-চাপা দিলেন কন্যা
ছবি সংগৃহীত
Share

জয়পুর: মা বেঁচে থাকলে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি হাতানো যাবে না, মিলবে না মৃত বাবার সরকারি চাকরিও। এই অন্ধ লোভের বশে নিজের গর্ভধারিণী মাকেই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার হাড়হিম করা অভিযোগ উঠল এক তরুণীর বিরুদ্ধে। রাজস্থানের জয়পুরের এই ঘটনায় স্তম্ভিত পুলিশ প্রশাসন। অভিযুক্ত কন্যার নাম আয়ুষি শর্মা। গত ৪ জুলাই এক নৃশংস পথ দুর্ঘটনার ছকে খুন করা হয় তাঁর মা নীরজ শর্মাকে। প্রথমে একে সাধারণ ‘হিট অ্যান্ড রান’ কেস বলে চালিয়ে দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা করা হলেও, শেষরক্ষা হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের ম্যারাথন জেরার মুখে ভেঙে পড়ে নিজের মায়ের রক্তের সুপারি দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন গুণধর কন্যা।

[TECHTARANGA-POST:10761]

পুলিশ জানিয়েছে, জয়পুরের এয়ারপোর্ট কলোনির বাসিন্দা বিজয় শর্মা সরকারি চাকরি করতেন। বছরখানেক আগে তাঁর মৃত্যুর পর নিয়ম অনুযায়ী সেই চাকরি পান স্ত্রী নীরজ শর্মা। কিন্তু সেই চাকরিটি নিজে করতে চেয়েছিলেন মেয়ে আয়ুষি। মা চাকরিটা নিজের নামে করে নেওয়ায় এবং আয়ুষির বিশেষভাবে সক্ষম ভাইয়ের প্রতি বেশি নজর দেওয়ায় মায়ের ওপর তীব্র আক্রোশ জন্মায় তাঁর। এর পরেই মায়ের ১০ কোটি টাকার সম্পত্তি ও চাকরি হাতাতে নিজের কাকা এবং খুড়তুতো ভাই বলরামকে এই চক্রে শামিল করেন আয়ুষি। কাকাদের লোভ দেখানো হয়, মাকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে পারলে ওই বিপুল সম্পত্তির অর্ধেক বলরামের নামে লিখে দেবেন তিনি।

এনকাউন্টার ইস্যুতে দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের সারাংশ

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত এক মাস ধরে মা নীরজ শর্মার দৈনন্দিন গতিবিধির ওপর কড়া নজরদারি চালায় আয়ুষি ও তাঁর খুড়তুতো ভাই। তাঁরা দেখেন, প্রতিদিন ছেলেকে স্কুলে দিয়ে নীরজদেবী কাজে যান এবং বিকেলবেলা হেঁটেই বাড়ি ফেরেন। মাকে মারার জন্য হরিয়ানা থেকে সাত লক্ষ টাকার বিনিময়ে এক পেশাদার সুপারি কিলার ও গাড়ি ভাড়া করেন আয়ুষি। ছক ছিল, গাড়ি চাপা দিয়ে এমনভাবে মারা হবে যেন সবাই একে পথ দুর্ঘটনা বলেই মনে করে। সেইমতো গত ৪ জুলাই কাজ থেকে ফেরার পথে পিছন থেকে তীব্র গতিতে এসে নীরজদেবীকে পিষে দেয় ঘাতক গাড়িটি। প্রায় ১০০ ফুট দূরে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

[TECHTARANGA-POST:10722]

মায়ের মৃত্যুর পরেই মামাকে ফোন করে কান্নায় ভেঙে পড়ার অভিনয় করেন আয়ুষি। কিন্তু আয়ুষির আচার-আচরণে আগে থেকেই নীরজদেবীর দাদার সন্দেহ থাকায় তিনি তড়িঘড়ি পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতেই পুলিশের চোখ চড়কগাছ হয়ে যায়। দেখা যায়, নীরজদেবী রাস্তার এক্কেবারে ধার ঘেঁষে হাঁটছিলেন, সেখানে দুর্ঘটনার কোনও সুযোগই ছিল না। একটি গাড়ি টার্গেট করে পিছন থেকে এসে তাঁকে ধাক্কা মারে। আরও আশ্চর্যের বিষয়, দুর্ঘটনার সময় অকুস্থলের ঢিলছোড়া দূরত্বেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় খোদ আয়ুষিকে। এই অকাট্য প্রমাণ হাতে আসতেই আয়ুষিকে আটক করে জেরা শুরু করে পুলিশ, আর তাতেই ফাঁস হয় লোভের বশে জন্মদাত্রীকে পিষে মারার এই রুদ্ধশ্বাস ও কলঙ্কিত অধ্যায়।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *