০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বাংলাদেশ মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা! ‘মেরেই ফেলুক’, ডিসেম্বরেই আত্মসমর্পণের বার্তা
বাংলাদেশরাজনীতি

মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা! ‘মেরেই ফেলুক’, ডিসেম্বরেই আত্মসমর্পণের বার্তা

Share
মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা! ‘মেরেই ফেলুক’, ডিসেম্বরেই আত্মসমর্পণের বার্তা
ফাইল ছবি
Share

ঢাকা: মাথায় ঝুলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া চরম ‘মৃত্যু পরোয়ানা’ বা মৃত্যুদণ্ডের সাজা! তা সত্ত্বেও বিন্দুমাত্র নতি স্বীকার করতে রাজি নন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী তথা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। বিশ্বখ্যাত সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক ঘোষণা করে ৭৮ বছর বয়সী এই নেত্রী জানিয়ে দিলেন, আগামী ডিসেম্বরেই তিনি সশরীরে নিজের দেশে ফিরছেন। 

[TECHTARANGA-POST:10811]

শুধু একাই নন, আওয়ামি লিগের শীর্ষ নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়েই বাংলাদেশে পা রাখবেন এবং সরাসরি আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন। এই চরম সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে কার্যত অকুতোভয় হাসিনা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মৃত্যু যদি আসেই, তবে তা বাংলাদেশের মাটিতেই আসুক। নয়াদিল্লিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার দীর্ঘ এক বছর পর হাসিনার এই হুঙ্কার ওপার বাংলার রাজনীতিতে এক মহা-ভূমিকম্প এনে দিয়েছে।

রয়টার্সের সাক্ষাৎকারে আবেগঘন অথচ অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি দেশে ফিরলেই ওরা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি আমাকে মেরেও ফেলতে পারে। তবু আমি ফিরব। আমার দলের নেতানেত্রী ও কর্মীরা এই মুহূর্তে অত্যন্ত মানসিক ও রাজনৈতিক চাপে আছেন। যেখানকার মাটিতে আমার মা-বাবা সপরিবারে কবরস্থ, যেখানকার মাটিতে আমার পরিবারের রক্ত মিশে আছে, আমি সেই দেশের মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চাই।” ২০২৪ সালে সংরক্ষণ-বিরোধী ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানের জেরে ঢাকা ছেড়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া হাসিনা দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর এভাবে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ায় ঢাকার অন্তর্বর্তী ও বর্তমান রাজনৈতিক মহলের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

গরু নিতে এসে রঘুনাথগঞ্জে ধরা বাংলাদেশি! তদন্তে পুলিশের বড় তৎপরতা

দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের শাসনভার সামলানো হাসিনা নিজের প্রশাসনের খামতি ও ভুলত্রুটির কথা এদিন কার্যত প্রথমবার অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “যখন কোনও সরকার দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকে, তখন কিছু ভুল হতেই পারে। কোনও প্রশাসনই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু ভালো-মন্দ বা ঠিক-ভুল বিচারের আসল দায়িত্ব তো সাধারণ মানুষের। আমি দেশের মানুষের উপরই সেই ভার দিলাম। ওরা আইনি প্রক্রিয়ায় আমাকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারে, এমনকি আমাকে আগামী দিনে ভোটে লড়তে নাও দিতে পারে। কিন্তু গণতান্ত্রিক দল আওয়ামি লিগকে কেন নিষিদ্ধ করা হলো? আমরা যদি খারাপ কাজ করে থাকি, তবে ব্যালট বক্সের মাধ্যমে মানুষই তার বিচার করুক।”

[TECHTARANGA-POST:10778]

শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশে প্রায় বছরখানেক শাসনকাজ চালায়। সেই আমলেই ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক বিগত সরকারের গণহত্যা মামলায় শেখ হাসিনা এবং তাঁর ক্যাবিনেটের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন মন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ডের ঐতিহাসিক সাজা দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, আওয়ামি লিগকে নির্বাচনে লড়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় ছাব্বিশের সাধারণ নির্বাচনে এই ঐতিহাসিক দলের কোনও প্রার্থী ভোটে দাঁড়াতে পারেননি। 

[TECHTARANGA-POST:10747]

তবে বাংলাদেশের মাটিতে দল কোণঠাসা হলেও বিদেশের মাটি থেকে আওয়ামি লিগকে পুনর্সংগঠিত করতে অনলাইনে কোমর বেঁধে নেমেছেন হাসিনা। তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ডিজিটাল বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় কেন্দ্রের মধ্যে ১২৫টির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন তিনি। ডিসেম্বরে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ও আত্মসমর্পণের ঘোষণায় বাংলাদেশের তপ্ত রাজনীতিতে এক নতুন মোড় আসতে চলেছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles