০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস বিতর্কে জেলা প্রশাসনের নোটিস, প্রথম দফার আইনি লড়াইয়ে বড় স্বস্তি অভিষেকের
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস বিতর্কে জেলা প্রশাসনের নোটিস, প্রথম দফার আইনি লড়াইয়ে বড় স্বস্তি অভিষেকের

Share
লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস বিতর্কে জেলা প্রশাসনের নোটিস, প্রথম দফার আইনি লড়াইয়ে বড় স্বস্তি অভিষেকের
ছবি সংগৃহীত
Share

কলকাতা: ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় রবিবার এক নাটকীয় মোড় এল কলকাতা হাই কোর্টে। শনিবারের সেই চরম প্রশাসনিক অ্যাকশনের বিরুদ্ধে ছুটির দিনেই জরুরি ভিত্তিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সাংসদের আইনজীবী। বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে নজিরবিহীন এই শুনানির পর আপাতত বড়সড় স্বস্তি পেলেন অভিষেক। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আমতলার ওই ভবন আর ভাঙা যাবে না। অর্থাৎ, ভাঙচুরের পর ভবনটি বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে, ঠিক সেই অবস্থাতেই তা বজায় রাখতে হবে। হাই কোর্টের এই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত থমকে গেল প্রশাসনের বুলডোজার অভিযান।

[TECHTARANGA-POST:11081]

রবিবার ছুটির দিনে আদালত খোলার পর প্রাথমিকভাবে বেলা বারোটায় এই হাই-ভোল্টেজ মামলার শুনানি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে রাজ্যের কোনও আইনজীবী সশরীরে উপস্থিত না থাকায় প্রক্রিয়াটি সাময়িকভাবে থমকে যায়। পরে রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানিতে যোগ দিয়ে মামলার মূল নথি ও অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার জন্য আদালতের কাছে কিছুটা সময় প্রার্থনা করেন। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজ্যের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থন না শুনে এই স্পর্শকাতর মামলার শুনানি একতরফাভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আর সেই কারণেই দুপুরের দিকে মূল সওয়াল-জবাবের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে পিছিয়ে দিতে হয়।

সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সব আসন ভর্তি, জানালেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী

আশ্চর্যের বিষয় হলো, যখন কলকাতায় উচ্চ আদালতে এই আইনি লড়াইয়ের প্রক্রিয়া চলছিল, ঠিক তখনই আমতলার ঘটনাস্থলে নতুন করে পারদ চড়তে শুরু করে। রবিবার সকালেই সেখানে পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে জেলা প্রশাসন। আমতলার ওই বিতর্কিত কার্যালয় চত্বরে আবারও নিয়ে যাওয়া হয় তিনটি বড় বুলডোজার। এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী এবং যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুত রাখা হয় দমকল বাহিনীকেও। গোটা এলাকাকে কার্যত কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলে যখন ভাঙার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই হাই কোর্টের স্থগিতাদেশের খবর এসে পৌঁছায়।

[TECHTARANGA-POST:11065]

আমতলার এই কার্যালয় ভাঙা নিয়ে বিতর্কের মূল উৎস হলো বৈধ নির্মাণ পরিকল্পনা বা বিল্ডিং প্ল্যান। প্রশাসনের দাবি, কোনও অনুমোদিত নকশা ছাড়াই বেআইনিভাবে এই কার্যালয়টি তৈরি করা হয়েছে। সাত দিনের ব্যবধানে পাঠানো দুটি পৃথক নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছিল, যে জমির ওপর অফিসটি দাঁড়িয়ে আছে তা আসলে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ কোম্পানির নামে কেনা এবং সেখানে অভিষেকের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। 

[TECHTARANGA-POST:11040]

এই বিষয়ে নোটিস পাঠিয়ে অভিষেককে জেলা প্রশাসনের দপ্তরে হাজির হতে বলা হলেও কোনও জবাব না মেলাতেই শনিবার সকালে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে তালা ভেঙে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। সেই সময় স্থানীয়দের একাংশের ভাঙচুর ও বিজেপি কর্মীদের ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় আমতলা। তবে শনিবারই আইনি লড়াইয়ের যে হুঁশিয়ারি অভিষেক দিয়েছিলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতের স্থগিতাদেশ এনে তিনি প্রথম রাউন্ডে প্রশাসনকে কিছুটা ব্যাকফুটে ঠেলে দিলেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *