০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূলের প্রথম পাঁচ প্রতিষ্ঠাতার অন্যতম, ক্ষমতা যেতেই মমতার ৪০ বছরের সঙ্গ ছাড়লেন তপন দাশগুপ্ত
পশ্চিমবঙ্গরাজনীতিহুগলি

তৃণমূলের প্রথম পাঁচ প্রতিষ্ঠাতার অন্যতম, ক্ষমতা যেতেই মমতার ৪০ বছরের সঙ্গ ছাড়লেন তপন দাশগুপ্ত

Share
তৃণমূলের প্রথম পাঁচ প্রতিষ্ঠাতার অন্যতম, ক্ষমতা যেতেই মমতার ৪০ বছরের সঙ্গ ছাড়লেন তপন দাশগুপ্ত
ছবি--প্রতীকী
Share

হুগলি: পরিবর্তনের বাংলায় ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই এবার কার্যত জনশূন্য হতে শুরু করেছে ঘাসফুল শিবির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, আর ক্ষমতাচ্যুত হতেই একে একে তাঁর বহু দীর্ঘদিনের ভরসার সঙ্গী ও লড়াকু সৈনিকেরা দল ছাড়তে শুরু করেছেন। সেই তালিকায় এবার যোগ হলো হুগলি জেলার রাজনীতির অন্যতম হেভিওয়েট নাম। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ ৪০ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে দল ছাড়ার ঘোষণা করলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সপ্তগ্রামের তিনবারের বিধায়ক তপন দাশগুপ্ত। প্রথম দিন থেকে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা ও প্রসারে যে কজন লড়াকু নেতা নেত্রীর ভূমিকা ছিল, তপনবাবু ছিলেন তাঁদের অন্যতম। হুগলি জেলা তৃণমূলের সভাপতি থাকাকালীন নিজের হাতে সংগঠন সাজানো এই নেতার পদত্যাগে জেলায় তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙন ও ধস নামল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

[TECHTARANGA-POST:11089]

তৃণমূল জমানায় দু’বারের মন্ত্রী হওয়া ছাড়াও দলের রাজ্য সহ-সভাপতি, ফুরফুরা শরিফ উন্নয়ন অথরিটি ও ফরেস্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন তপন দাশগুপ্ত। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দল তাঁকে টিকিট না দেওয়ায় একটা তীব্র অভিমান তৈরি হয়েছিল তাঁর মনে। সেই ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়ে যখন রাজনীতিতে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অসিত মজুমদারকে হুগলি শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদে বসায় তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। এরপরই আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি এই বর্ষীয়ান নেতা। দল ছাড়লেও সক্রিয় রাজনীতি থেকে যে তিনি সরছেন না, তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তপনবাবু। একই সঙ্গে আগামী দিনে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার একটি বড়সড় ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন তিনি।

[TECHTARANGA-POST:11042]

দল ছাড়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তপন দাশগুপ্ত। তিনি স্পষ্ট জানান, তৃণমূলের একদম প্রথম দিন থেকে যে পাঁচজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন, তিনি তাঁদের মধ্যে একজন। এত বছর বিশ্বস্ততার সাথে দায়িত্ব সামলানোর পর যেভাবে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলো, তা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। হুগলি জেলায় তৃণমূলের ভরাডুবি নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এখন ধনেখালি আর চণ্ডীতলা বাদে গোটা হুগলিতে তৃণমূলের আর কোনও অস্তিত্বই নেই। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে দলটা আজ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে এবং আবার সেই শুরুর দিকের ছোট্ট তৃণমূলে পরিণত হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজনীতি যখন জনসেবা ছেড়ে ব্যবসায় পরিণত হয়, তখন সেই দলের এই করুণ হাল হওয়াটাই স্বাভাবিক।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *