০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home শিক্ষাঙ্গন আরও খবর ‘টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন?’ চরম অপমান পেরিয়ে অবশেষে মুখে হাসি অনামিকার!
আরও খবরদার্জিলিংপশ্চিমবঙ্গশিক্ষাঙ্গনশিক্ষাঙ্গন

‘টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন?’ চরম অপমান পেরিয়ে অবশেষে মুখে হাসি অনামিকার!

Share
Share

শিলিগুড়ি: পড়াশোনা শেষে বহু স্বপ্নের চাকরি পাওয়া, ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোর আনন্দ, আর তারপর হঠাৎ করেই চাকরি হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া—বিগত কয়েক বছরে এই মারাত্মক অন্ধকারের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন শিলিগুড়ির অনামিকা রায়। প্রতিবেশীদের কটূক্তি, সমাজের বাঁকা মন্তব্য আর আদালতের দরজায় দরজায় অনিশ্চিত লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জীবনে ফিরল স্বস্তি। রাজ্যজুড়ে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির ডামাডোলের মাঝেই নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে আপার প্রাইমারিতে আবার নতুন করে শিক্ষিকা পদে যোগ দিতে চলেছেন তিনি।

রাজ্যের বহুল আলোচিত বিদ্যালয় সেবা কমিশন (SSC) নিয়োগ কাণ্ডে অনামিকা রায়ের নাম অন্যতম পরিচিত একটি নাম। প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর বেআইনি চাকরি পাওয়ার ঘটনা প্রমাণিত হলে সেই পদে আদালতের নির্দেশে নিযুক্ত হন ববিতা সরকার। পরবর্তীতে ববিতার মার্কশিটেও নম্বরের গরমিল সামনে এলে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁর চাকরি বাতিল হয় এবং ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাজগঞ্জ ব্লকের আমবাড়ি হরিহর হাইস্কুলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন অনামিকা। তবে সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল হয়ে ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের রায়ে আচমকাই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন অনামিকাও।

সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে বেতন চালু থাকলেও রাস্তাঘাটে বেরোলেই শুনতে হতো—‘চাকরিটা আর কতদিন থাকবে?’ কিংবা ‘টাকা দিয়ে চাকরি পাননি তো?’—এমন নানা কটু কথা। সেই মানসিক যন্ত্রণা কাটিয়ে ২০১৫ সালের আপার প্রাইমারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আদালতের নতুন রায়ে খুলে যায় আলোর পথ। সম্প্রতি রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২১ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত চলা কাউন্সেলিংয়ে ডাক পান তিনি এবং হাতে তুলে নেন নতুন সুপারিশপত্র। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের বেলঝাড়ি জুনিয়র হাই স্কুলে এবার তিনি নতুন করে শিক্ষকতা শুরু করবেন। চরম অপমানের জবাব দিয়ে অনামিকা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের মানসিক যন্ত্রণার পর এবার অন্তত একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন তিনি।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *