কলকাতাঃ বয়স মাত্র ৭ বছর। অথচ ছোটবেলা থেকেই থ্যালাসেমিয়ার সঙ্গে লড়াই। নিয়মিত রক্ত নিতে নিতে শরীরে বাড়ছিল আয়রনের মাত্রা, থমকে গিয়েছিল স্বাভাবিক বৃদ্ধি। বাংলাদেশের চিকিৎসকদের কাছ থেকে মিলেছিল কার্যত হতাশার খবর। কিন্তু কলকাতায় এসে বদলে গেল ছবিটা। চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় বিরল থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত বাংলাদেশি শিশু রাকেশ সরকার ওরফে জুয়েল পেল নতুন জীবন।
[TECHTARANGA-POST:11864]
ঢাকার বাসিন্দা রাকেশের শরীরে ছিল বিরল ই-বিটা থ্যালাসেমিয়া। বাংলাদেশের চিকিৎসকদের আশঙ্কা ছিল, তাঁর আয়ু হয়তো আর ১৪-১৫ বছরের বেশি হবে না। এরপর ছেলেকে নিয়ে কলকাতায় চিকিৎসার জন্য আসার সিদ্ধান্ত নেন রাকেশের বাবা-মা। হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার পর তাঁরা জানতে পারেন, এখনও আশার আলো রয়েছে। তবে প্রয়োজন হবে উপযুক্ত স্টেম সেল ডোনারের। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে আরও এক সন্তানের পরিকল্পনা করেন রাকেশের বাবা-মা। আইভিএফ পদ্ধতিতে জন্ম হয় তাঁদের কন্যাসন্তান স্নিগ্ধার। এক বছর বয়স হওয়ার আগেই তার শরীর থেকে সংগ্রহ করা হয় কর্ড ব্লাড সেল। পাশাপাশি রাকেশের বাবার কাছ থেকেও নেওয়া হয় হ্যাপলো কর্ড ব্লাড।
[TECHTARANGA-POST:11864]
এই দুই উৎস থেকে সংগৃহীত কোষ ব্যবহার করে রাকেশের শরীরে বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন করা হয়। চিকিৎসার এই পদ্ধতিকেই স্টেম সেল থেরাপির অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই চিকিৎসার পর রাকেশের শরীরে নতুন করে রক্তকণিকা তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে সে। চিকিৎসকদের দাবি, বর্তমানে রাকেশ থ্যালাসেমিয়ামুক্ত। ছেলের সুস্থ হয়ে ওঠায় স্বাভাবিক ভাবেই খুশি তাঁর বাবা-মা। তাঁদের কথায়, বাংলাদেশে যখন কার্যত কোনও আশার আলো দেখছিলেন না, তখন কলকাতায় এসে নতুন পথ খুঁজে পেয়েছেন তাঁরা।
Leave a comment