কলকাতাঃ পুজোর ছুটিতে পাহাড়ে যাওয়ার পরিকল্পনাই ডেকে আনল সর্বনাশ। অনলাইনে হোটেল বুকিং করতে গিয়েই বড়সড় বিপদে পড়লেন বেহালার এক বাসিন্দা। প্রতারকদের তৈরি ভুয়ো ওয়েবসাইটকে আসল হোটেলের সাইট ভেবে যোগাযোগ করেছিলেন তিনি। এরপর ধাপে ধাপে তাঁর কাছ থেকে টাকা ও ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ড থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার ৮৮৮ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় বেহালা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
[TECHTARANGA-POST:11991]
পরিবারকে নিয়ে উত্তরাখণ্ডে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল ওই ব্যক্তির। তখনই একটি হোটেলের ছবি এবং পরিষেবা দেখে সেটি পছন্দ হয়ে যায়। ওয়েবসাইটে থাকা ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতেই অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে হোটেলের কর্মী বলে পরিচয় দেন। এরপরই শুরু হয় আসল ফাঁদ। পুজোর মরসুমে নৈনিতালে পর্যটকদের ভিড় বাড়বে এবং দ্রুত ঘর বুক না করলে জায়গা পাওয়া যাবে না বলে তাঁকে জানানো হয়। বুকিং নিশ্চিত করতে ওই ব্যক্তিকে ২৪ হাজার টাকা দিতে বলা হয়। এরপরই কিছু না ভেবেই ওই টাকা পাঠিয়ে দেন তিনি। কিন্তু এরপর আরও এক ধাপ এগোয় প্রতারণা। জানানো হয়, হোটেলের রেকর্ডে তথ্য রাখার জন্য তাঁর ক্রেডিট কার্ডের নম্বর প্রয়োজন। সেই কথাতেও সন্দেহ হয়নি তাঁর। কার্ডের তথ্য দেওয়ার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই মোবাইলে আসে একটি ওটিপি।
এবার সেই ওটিপি-ও চেয়ে বসে ফোনের ওপারের ব্যক্তি। প্রথমে দিতে চাননি ওই পর্যটক। কিন্তু তাঁকে বোঝানো হয়, ওটিপি না দিলে বুকিং সম্পূর্ণ হবে না। এমনকি আগের ২৪ হাজার টাকাও ফেরত পাওয়া যাবে না বলে চাপ দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ওটিপি জানিয়ে দেন তিনি। তার পরেই বুঝতে পারেন, সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে। অভিযোগ, তাঁর ক্রেডিট কার্ড থেকে এক ধাক্কায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার ৮৮৮ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এরপরই ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করার পাশাপাশি থানায় অভিযোগ করেন তিনি।
[TECHTARANGA-POST:11987]
তদন্তে নেমে পুলিশ মনে করছে, পর্যটকদের লক্ষ্য করেই পরিকল্পিত ভাবে এই ধরনের ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করা হচ্ছে। পুজোর আগে এই ধরনের প্রতারণা নিয়ে সতর্ক করছে লালবাজারও। শুধু নৈনিতাল নয়, এর আগে পুরী-সহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে হোটেল বুকিংয়ের নাম করে প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছে।
Leave a comment