০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বিশ্ব দিল্লি ‘ভারতও রক্ষা পাবে না!’ নেপালে হড়পা বানের মারাত্মক ধ্বংসলীলার মাঝেই দিল্লিকে চরম হুঁশিয়ারি
দিল্লিপ্রাকৃতিক দুর্যোগবিশ্বভারতবর্ষ

‘ভারতও রক্ষা পাবে না!’ নেপালে হড়পা বানের মারাত্মক ধ্বংসলীলার মাঝেই দিল্লিকে চরম হুঁশিয়ারি

Share
Share

কাঠমান্ডু: প্রকৃতির ভয়াবহ রোষে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল। তুষারধস ও হড়পা বানের জেরে চোখের পলকে একের পর এক শহর ভেসে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। এই নজিরবিহীন বিপর্যয়ের ভয়াবহতা কাটিয়ে ওঠার আগেই ভারতকে অত্যন্ত কড়া এবং তাৎপর্যপূর্ণ সতর্কবার্তা দিলেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, হিমালয়ের পরিবেশ যেভাবে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, তাতে সতর্ক না হলে ভারতের অবস্থাও খুব শীঘ্রই নেপালের মতোই ভয়াবহ হতে পারে। জলবায়ু সংকটের মতো বিশ্বজনীন সংকট মোকাবিলায় অবিলম্বে সব দেশকে পারস্পরিক বিভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেপালের বিদেশমন্ত্রী বলেন, ভারত ও নেপালের দীর্ঘদিনের আত্মিক মেলবন্ধনকে এতদিন কেবল ‘রুটি-বেটি’ কিংবা ‘সীতা-রাম’-এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের নিরিখে দেখা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সময়ের জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা সেই ভাবনাকে বদলে দেওয়ার দাবি রাখে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন দুই দেশের সম্পর্ককে বাস্তুতান্ত্রিক ও পরিবেশগত সুরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা জরুরি। হিমালয়ের বরফ ও হিমবাহ গলে গেলে তার চরম প্রভাব কেবল পাহাড়ি অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা নদী ও সমুদ্রের জলস্তর বাড়িয়ে গোটা উপমহাদেশকে ভাসিয়ে দেবে। নেপালে ঘটে যাওয়া ধ্বংসলীলা তারই একটি স্পষ্ট প্রমাণ।

শিশির খানাল আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, পরিবেশগত ভারসাম্যের নিরিখে ভারত, চিন, নেপাল এবং ভুটান একে অপরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। এবার হয়তো হড়পা বান আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে সরাসরি প্রবেশ করেনি, কিন্তু ভবিষ্যৎ যে আরও ভয়ঙ্কর হতে চলেছে সেই অশনি সংকেত স্পষ্ট। এদিকে এই মারাত্মক দুর্যোগে নেপালের স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভারতীয় নাগরিকরা। ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া পর্যটক এবং সেখানে কর্মরত মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত ২৮৮ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি তিব্বত সীমান্তে আটকে রয়েছেন আরও প্রায় ২০০ জন মানুষ। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হলেও দুর্গম পরিস্থিতির কারণে বহু মানুষের পরিণতি এখনও অনিশ্চিত।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *