০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home প্রাকৃতিক দুর্যোগ কলকাতা আকাশছোঁয়া বাসের ভাড়া! বিমানেও আগুন, উত্তরবঙ্গ যাত্রীদের দিশেহারা দশা
কলকাতাদুর্ঘটনাপশ্চিমবঙ্গপ্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রাকৃতিক দুর্যোগভ্রমণশিলিগুড়ি

আকাশছোঁয়া বাসের ভাড়া! বিমানেও আগুন, উত্তরবঙ্গ যাত্রীদের দিশেহারা দশা

Share
Share

কলকাতা: নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে রেললাইনে ভয়াবহ ধস নামায় কার্যত থমকে গিয়েছে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ। একের পর এক এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও পর্যটক। আর ঠিক এই সুযোগেই ট্রেনের বিকল্প মাধ্যম হিসেবে বেসরকারি দূরপাল্লার বাসগুলিতে শুরু হয়েছে অবাধ ‘পকেট কাটা’। গতকাল রাতে শিলিগুড়িগামী যে বাসের টিকিট মিলছিল ১৬০০ টাকায়, শুক্রবার সকাল হতেই জনপ্রিয় বাস বুকিং অ্যাপগুলিতে সেই টিকিটের দাম একলাফে পৌঁছে গিয়েছে চার থেকে প্রায় পাঁচ হাজার টাকায়! ডায়নামিক ফেয়ারের নাম করে এই অগ্নিমূল্য হাঁকানোয় মাথায় হাত যাত্রীদের।

টানা প্রবল বৃষ্টির জেরে ফরাক্কায় রেললাইনের নীচের মাটি সরে যাওয়ায় হাওড়া-মালদহ ডিভিশনে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়। শতাব্দী, বন্দে ভারত, তেভাগা, রাধিকাপুর, কাঞ্চনকন্যা, পদাতিক ও দার্জিলিং মেলের মতো একের পর এক ট্রেন বাতিল ঘোষণা করেছে পূর্ব রেল। কেবল উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসকে ঘুরপথে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার থেকে টানা তিন দিনের সরকারি ছুটি থাকায় অনেকেই বাড়ি ফেরা বা ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করেছিলেন। কিন্তু ট্রেন বাতিলের জেরে ধর্মতলার সরকারি ও বেসরকারি বাস কাউন্টারগুলিতে ভোর থেকেই উপচে পড়ছে অগণিত মানুষের ভিড়। এনবিএসটিসি (NBSTC)-র বাড়তি বাসের দাবি জানানো হলেও চাহিদার সুযোগ নিয়ে প্রাইভেট ভলভো বাসের ভাড়া চলে গিয়েছে সাধারণের নাগালের বাইরে। শ্যামলী কিংবা ইজি রাইডের মতো বাসগুলিতে শিলিগুড়ির ভাড়া এক ধাক্কায় পৌনে পাঁচ থেকে পাঁচ হাজার টাকায় পৌঁছে গিয়েছে।

অবস্থা এমনই যে , জরুরী প্রয়োজনে শিলিগুড়ি বা বাগডোগরা পৌঁছতে বিমানের টিকিটের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। কলকাতা থেকে বাগডোগরাগামী ফ্লাইটগুলির টিকিট শুক্রবার সকালে ৮,৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৪,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বিকোচ্ছে। কিছু কানেক্টিং ফ্লাইট আবার দিল্লি বা মুম্বই হয়ে ঘুরে যাচ্ছে, যাতে সময় ও টাকা— দুটোই দ্বিগুণ লাগছে। বিমান ও বাসের এমন অনিয়ন্ত্রিত ভাড়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।

পর্যটন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সংগঠনের তরফে সরকারের কাছে দ্রুত পর্যাপ্ত সরকারি বাস চালানোর আর্জি জানানো হয়েছে। এদিকে ফরাক্কার ধসগ্রস্ত লাইনে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মাটি ও পাথর ফেলে মেরামতির কাজ চালাচ্ছেন রেলকর্মীরা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করে লাইন চালু করতে আরও অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা সময় লেগে যাবে বলে খবর। ফলে সপ্তাহের শুরুতেই উত্তরবঙ্গযাত্রীদের ভোগান্তি যে সহজে মিটছে না, তা বলাই বাহুল্য।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles