০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ নদিয়া মিষ্টির দোকানে মদের বোতল! চাপড়ায় খাদ্য দফতরের আচমকা অভিযানে তুলকালাম
নদিয়াপশ্চিমবঙ্গপশ্চিমবঙ্গ

মিষ্টির দোকানে মদের বোতল! চাপড়ায় খাদ্য দফতরের আচমকা অভিযানে তুলকালাম

Share
মিষ্টির দোকানে মদের বোতল! চাপড়ায় খাদ্য দফতরের আচমকা অভিযানে তুলকালাম
নদিয়ার চাপড়ায় মিষ্টির দোকান থেকে উদ্ধার মদের বোতল। নিজস্ব ছবি
Share

চাপড়া: মিষ্টির থালায় সাজানো রসে টইটম্বুর রসগোল্লা, পান্তুয়া কিংবা সন্দেশ। 

কিন্তু তার ঠিক পেছনেই রেফ্রিজারেটর বা স্টোররুমে উঁকি মারছে মদের বোতল! শুধু তা-ই নয়, ফ্রিজ খুলতেই বেরিয়ে আসছে দুর্গন্ধযুক্ত পচা-বাসি মাংস ও বাসি দই। চাপড়া ব্লকের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের টিম আচমকা অভিযান চালাতেই সামনে এল এই চোখ কপালে তোলার মতো ছবি। 

এই ভয়াবহ কারচুপির জেরে তাৎক্ষণিকভাবে একটি নামী মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি পচা খাবার বিক্রির দায়ে এলাকার দুটি নামজাদা হোটেল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

নদিয়া জেলার চাপড়া বাজার এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই নিম্নমানের খাবার বিক্রির একাধিক অভিযোগ জমা হচ্ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার সকালে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ অভিযানে নামেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকেরা। একের পর এক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় ঢুকে চলে অতর্কিত তল্লাশি।

অভিযান চলাকালীন স্থানীয় একটি মিষ্টির দোকানে ঢোকেন আধিকারিকেরা। দোকান সংলগ্ন ফ্রিজ এবং কারিগরদের কাজের জায়গা পরিদর্শন করতেই এক কোণ থেকে উদ্ধার হয় মদের বোতল। মিষ্টির দোকানে এমন তাজ্জব জিনিস দেখে চমকে ওঠেন উপস্থিত আধিকারিক ও পুলিশ কর্মীরা। দোকানদারকে এ বিষয়ে চেপে ধরতেই তৈরি হয় তুমুল চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। ক্ষোভ প্রকাশ করে আধিকারিকেরা প্রশ্ন তোলেন, “মিষ্টির দোকানে মদের বোতল এল কোথা থেকে?”

প্রাথমিকভাবে থতমতো খেয়ে যান দোকানের মালিক। পরে তিনি দাবি করেন, এই বোতল কোথা থেকে এল সে বিষয়ে তিনি নাকি কিছুই জানেন না! তাঁর সাফাই, “হয়তো মিষ্টি বানানোর কারিগররা নিজেদের খাওয়ার জন্য লুকিয়ে রেখেছিল।” মালিকের এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সুস্বাদু মিষ্টি তৈরির আড়ালে মদ্যপ অবস্থায় কাজ চালাচ্ছিলেন কারিগররা। মদের বোতল উদ্ধারের পরপরই খাদ্য সুরক্ষা দফতর কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে ওই দোকানের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ দেয়।

অন্যদিকে, সংলগ্ন দুটি হোটেলে ফ্রিজ খুলতেই আধিকারিকদের চক্ষু চড়কগাছ। ফ্রিজের মধ্যে মজুত করে রাখা হয়েছিল দিনের পর দিন পুরোনো বাসি ও পচা মাংস, যা থেকে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছিল। পাশাপাশি ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো পচা দইও বাজেয়াপ্ত করা হয়। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের চরম ক্ষতি করার অপরাধে ওই দুটি হোটেল তাত্ক্ষণিকভাবে সিল করে দেওয়া হয় এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নির্দেশ ঝোলানো হয়।

খাদ্য সুরক্ষা দফতরের এই ঝটিকা অভিযানে এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তবে প্রশাসনের এই কঠোর ভূমিকায় চরম সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ নাগরিকেরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, হোটেল বা রেস্তোরাঁয় খাবার দেওয়ার আগে সেটি আদৌ মানুষের খাওয়ার যোগ্য কি না, তা যাচাই করা সবার আগে প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের পুনরায় ব্যবসার লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার যেন কঠোর বিচার-বিবেচনা করে, সেই দাবিও তুলেছেন চাপড়াবাসী।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ 

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *