০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ অপরাধ না এল ওটিপি, না বাজল ফোন! নিমেষের মধ্যে অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা,মাথায় হাত ব্যবসায়ীর
অপরাধপশ্চিমবঙ্গ

না এল ওটিপি, না বাজল ফোন! নিমেষের মধ্যে অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা,মাথায় হাত ব্যবসায়ীর

Share
না এল ওটিপি, না বাজল ফোন! নিমেষের মধ্যে অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা,মাথায় হাত ব্যবসায়ীর
ছবি সংগৃহীত
Share

পানাগড়: ডিজিটাল লেনদেনের যুগে ব্যাংক জালিয়াতি ঠেকাতে সবসময়ই সতর্ক করা হয় অচেনা লিঙ্কে ক্লিক না করতে কিংবা কাউকে ওটিপি (OTP) না দিতে। কিন্তু যদি কোনো ফোনই না আসে? যদি কোনো ওটিপি শেয়ার না করা সত্ত্বেও স্রেফ চোখের পলকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পুরো ফাঁকা হয়ে যায়? এমনই এক রোমহর্ষক ও রহস্যময় ঘটনার সাক্ষী থাকল পশ্চিম বর্ধমানের পানাগড়। কোনো অজানা লিঙ্ক নয়, কোনো গোপন তথ্য ফাঁস নয়—অথচ কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে নিঃশব্দে উধাও হয়ে গেল মোট ৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। অভিনব এই সাইবার হানার খবর চাউর হতেই স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে রীতিমতো অন্ধকারে হাতড়াচ্ছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম বিভাগ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঁকসা থানার অন্তর্গত পানাগড় গ্রামের বাসিন্দা প্রদীপ কুমার দে পেশায় একজন ব্যবসায়ী। দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের একটি নামী বেসরকারি ব্যাংকে তাঁর দীর্ঘদিনের একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। চলতি মাসের ১ তারিখ হঠাৎই তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইলে একের পর এক নোটিফিকেশন ও ডেবিট মেসেজ আসতে শুরু করে। মেসেজগুলো খুলে দেখতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় প্রদীপবাবুর। তিনি দেখেন, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ধাপে ধাপে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে সাড়ে ৮ লক্ষ টাকার বিরাট অঙ্ক। হতভম্ব ব্যবসায়ী সঙ্গে সঙ্গে খতিয়ে দেখেন, ঘটনার আগে না তাঁর ফোনে কোনো অচেনা নম্বর থেকে কল এসেছিল, না ব্যাংকিং সংক্রান্ত কোনো ওটিপি তিনি কাউকে দিয়েছিলেন। কোনো সন্দেহজনক লিঙ্কেও তিনি হাত দেননি। তাহলে কোন অদৃশ্য প্রযুক্তির ফাঁদে পড়ে স্রেফ মেসেজ আসতেই তাসের ঘরের মতো অ্যাকাউন্ট সাফ হয়ে গেল, সেই রহস্যে ঘনাচ্ছে গভীর ধোঁয়াশা।

সর্বস্ব হারানোর পর মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে দুর্গাপুরের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখায় ছুটে যান প্রদীপবাবু। কিন্তু সেখানে আশানুরূপ কোনো সহযোগিতা না পেয়ে তিনি কাঁকসা থানার সাইবার ক্রাইম বিভাগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একইসঙ্গে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের কাছেও নিজের সর্বনাশের কথা জানান তিনি। তবে ঘটনার বেশ কয়েকদিন কেটে গেলেও উধাও হওয়া টাকা আজও ফেরত পাননি এই ব্যবসায়ী। সারাজীবনের তিলে তিলে জমানো সঞ্চয় এক নিমেষে হারিয়ে কার্যত ভেঙে পড়েছেন তিনি। প্রদীপবাবু ক্ষোভ ও আতঙ্কের সুরে জানিয়েছেন, স্রেফ কয়েকটি মেসেজ ঢুকেই তাঁকে পথের ভিখারি করে দিয়েছে, ব্যাংকও কোনো সুস্পষ্ট দিশা দেখাতে পারছে না। ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার এমন চূড়ান্ত নিরাপত্তাহীনতায় সাধারণ গ্রাহকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হয়েছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *