০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ আইন-কানুন বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের বিস্ফোরক দাবি, এক্তিয়ার নিয়ে চরম বিতর্ক!
আইন-কানুনদিল্লিভারতবর্ষভারতবর্ষ

বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের বিস্ফোরক দাবি, এক্তিয়ার নিয়ে চরম বিতর্ক!

Share
বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের বিস্ফোরক দাবি, এক্তিয়ার নিয়ে চরম বিতর্ক!
সুপ্রিম কোর্ট। ফাইল চিত্র
Share

নয়াদিল্লি: বৈবাহিক ধর্ষণ বা ম্যারিটাল রেপকে কি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে? এই অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রশ্নে এবার সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে স্পষ্ট ও বিতর্কিত অবস্থান নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার শীর্ষ আদালতে কেন্দ্র সাফ জানিয়ে দিল, বৈবাহিক সম্পর্ককে ধর্ষণের অপরাধের আওতায় আনা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও এক্তিয়ার সুপ্রিম কোর্টের নেই; এটি সম্পূর্ণভাবে দেশের সংসদের বিচার্য বিষয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই অবস্থান স্পষ্ট করে দেন।

সাবেক ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা থেকে শুরু করে বর্তমান ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৬৩ ধারার ‘ব্যতিক্রম ২’-এ বৈবাহিক ধর্ষণকে বরাবরই সাধারণ ধর্ষণের সংজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, স্ত্রীর বয়স ১৮ বছরের বেশি হলে স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ককেও সরাসরি ধর্ষণ বলে গণ্য করা হয় না। দীর্ঘদিনের এই আইনি ব্যতিক্রমকে সরাসরি অসাংবিধানিক দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই সংক্রান্ত শুনানিতে কেন্দ্রের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, আইনের এই পরিধি নির্ধারণের ক্ষমতা একমাত্র জনপ্রতিনিধিদের তৈরি সংসদের হাতেই থাকা উচিত। অন্যদিকে মামলাকারীদের পক্ষে বিশিষ্ট আইনজীবী করুণা নন্দী জোরদার সওয়াল করে বলেন, কোনও স্বামী যদি তাঁর স্ত্রীকে গুরুতর শারীরিক আঘাত করেন, তবে বৈবাহিক সম্পর্কের দোহাই দিয়ে তিনি সাজা থেকে বাঁচতে পারেন না। ঠিক একইভাবে ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন সংসর্গও নারীর উপর এক গভীরতম শারীরিক ও মানসিক আঘাতের শামিল।

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে জানান, বৈবাহিক সম্পর্কে কোনও মহিলা তাঁর অনিচ্ছায় যৌন সম্পর্কের শিকার হলে তিনি যে নির্যাতনেরই শিকার, তাতে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই। আদালত নির্যাতিতার পাশে দাঁড়িয়ে সুরক্ষার দিকটি সুনিশ্চিত করবে। তবে মূল প্রশ্নটি হলো—রাষ্ট্র এই নির্দিষ্ট অপরাধটিকে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করবে কি না। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা মূলত দুটি সাংবিধানিক দিক খতিয়ে দেখবে—আইনের এই ব্যতিক্রমী ধারাটি সাংবিধানিক দিক থেকে কতটা বৈধ এবং এই ব্যতিক্রম বহাল থাকলেও কোনও মামলার আইনি স্থায়িত্ব কতটা সম্ভব। আগামী তিন সপ্তাহ পর প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার মামলাগুলির লাগাতার চূড়ান্ত শুনানি চলবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।

[TECHTARANGA-POST:12477]

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *