০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা KOLKATA RESTAURANT CRACKDOWN: পুজোর মুখে খাদ্যরসিকদের মাথায় হাত! কলকাতার আরও ২৫ নামী রেস্তরাঁর লাইসেন্স বাতিল পুরসভার
কলকাতাকলকাতাপশ্চিমবঙ্গরসনাবিলাস

KOLKATA RESTAURANT CRACKDOWN: পুজোর মুখে খাদ্যরসিকদের মাথায় হাত! কলকাতার আরও ২৫ নামী রেস্তরাঁর লাইসেন্স বাতিল পুরসভার

Share
KOLKATA RESTAURANT CRACKDOWN: পুজোর মুখে খাদ্যরসিকদের মাথায় হাত! কলকাতার আরও ২৫ নামী রেস্তরাঁর লাইসেন্স বাতিল পুরসভার
ফাইল ছবি।
Share

কলকাতা: উৎসবের প্রাক্কালে শহরবাসীর প্রিয় রসনাতৃপ্তির ঠিকানায় আছড়ে পড়ল চরম বিপর্যয়। রাজ্য সরকারের খাদ্য সুরক্ষার কড়া নিয়ম না মানায় আগেই ৪০টি খাদ্য প্রতিষ্ঠানের উপর কোপ ফেলেছিল কলকাতা পুরসভা, আর তার রেশ কাটতে না কাটতেই গভীর রাতে আরও ২৫টি নামী রেস্তরাঁর লাইসেন্স বাতিল করে দিল কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে এক ধাক্কায় বন্ধের খাঁড়া ঝুলল শহরের মোট ৬৫টি বিখ্যাত রেস্তরাঁর ঘাড়ে। নতুন এই তালিকায় রয়েছে চাংওয়া, আলিয়া, দাদা বউদির হোটেল, ডেন জং কিচেন কিংবা পার্ক স্ট্রিটের ডন জিওভানির মতো তাবড় নাম। কলকাতা ছাড়িয়ে এই অভিযানের আঁচ জেলাগুলিতেও ছড়াতে শুরু করেছে, ফলে দুর্গাপূজার ঠিক আগে এমন নজিরবিহীন পদক্ষেপে ভোজনরসিকদের মধ্যে যেমন আতঙ্ক দানা বেঁধেছে, তেমনই প্রশাসনিক মহলে তৈরি হয়েছে তুমুল আলোড়ন।

তবে পুরসভার এই অভিযানকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আইনি বিতর্ক ও বিভ্রান্তি। পুরকমিশনার স্মিতা পাণ্ডে সাংবাদিকদের সামনে নিজাম বা বিগ বসের মতো যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের নাম তুলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেরই নাম মিলছে না অফিশিয়াল বা সরকারি তালিকায়। ফলে বিভ্রান্তির সুযোগ নিয়ে একাধিক রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ দাবি তুলেছে, তারা পুরসভার কোনো স্থগিতাদেশ বা নোটিস পায়নি। এমনকি বেশ কিছু ব্যবসায়ীর পাল্টা হুঙ্কার, খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় এভাবে ঢালাও লাইসেন্স বাতিল করার আইনি এক্তিয়ারই কলকাতা পুরসভার নেই। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও জনরোষ বাড়ছে; খাদ্যরসিকদের সরাসরি প্রশ্ন—হলদিরাম, যুগলস, জয়হিন্দ কিংবা গুপ্তা ব্রাদার্সের মতো বড় মাপের প্রতিষ্ঠানগুলিকে কেন নজরদারির আওতার বাইরে রাখা হলো?

নানা বিভ্রান্তির মাঝে নিজেদের সুনাম বাঁচাতে ময়দানে নেমেছে শহরের বহু নামী ব্র্যান্ড। ভবানীপুরের প্রখ্যাত মিষ্টান্ন বিপণি ‘বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক’-এর কর্ণধার সুদীপ মল্লিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, পুরসভার তালিকায় উল্লিখিত দোকানটি কোনোভাবেই তাঁদের নয় এবং তাঁরা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে মিষ্টি বানান। অন্যদিকে, বিরিয়ানির জনপ্রিয় ব্র্যান্ড আরসালান সরাসরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে সাফ জানিয়েছে, তাদের কোনও শাখায় এমন কোনও নোটিস আসেনি। ভেজাল বা পচা মাংসের অভিযোগ উড়িয়ে আরসালান কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, গত ২৫ বছর ধরে কাশ্মীর থেকে বিশেষ মশলা আসে এবং খাবারে কেবল দেশি মুরগি ব্যবহৃত হয়। খাবারের নিখুঁত মান যাচাইয়ে নিজস্ব রাসায়নিক ও মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরি খোলার ঘোষণা করার পাশাপাশি সরকারি তল্লাশি অভিযানকে তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন। পুরসভার এই সাঁড়াশি অভিযানে শহরের খাদ্য সাম্রাজ্যে স্বস্তি ফেরে নাকি বিতর্কের জল আদালত পর্যন্ত গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

[TECHTARANGA-POST:12489]

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *