০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা Weather Update: ধেয়ে আসছে গভীর নিম্নচাপ, পুজো কেনাকাটায় কি জলছবি?
কলকাতাকলকাতা

Weather Update: ধেয়ে আসছে গভীর নিম্নচাপ, পুজো কেনাকাটায় কি জলছবি?

Share
Weather Update: ধেয়ে আসছে গভীর নিম্নচাপ, পুজো কেনাকাটায় কি জলছবি?
সোমবার থেকে ঘুরতে পারে বাংলার আবহাওয়া। ছবি : সংগৃহীত
Share

কলকাতা: মহালয়া ও দুর্গাপুজো আসতে আর হাতে গোনা কয়েক দিন মাত্র বাকি। 

কেনাকাটা থেকে শুরু করে প্যান্ডেল তৈরি, রাজ্যজুড়ে উৎসবের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। কিন্তু সেই আনন্দঘন আবহেই এ বার শিরে সংক্রান্তি! বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপের জেরে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজ্যজুড়ে দুর্যোগের মেঘের ঘনঘটা। 

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কাল অর্থাৎ সোমবার থেকেই আবহাওয়া বদলাতে শুরু করবে। মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি সপ্তাহের মাঝামাঝি একাধিক জেলায় অতি ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার জোড়া ফলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কিন্তু কাল থেকে কেমন থাকবে বঙ্গের আকাশ? কোথায় কতখানি দুর্যোগের আশঙ্কা? রইল রাজ্যজুড়ে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের মেগা আপডেট।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, উত্তর আন্দামান সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত ইতিমধ্যেই শক্তি বাড়িয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ক্রমশ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছে। সোমবারের মধ্যেই এটি পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর পর ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার তা আরও শক্তি সঞ্চয় করে ‘অতি গভীর নিম্নচাপে’ রূপান্তরিত হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতের মৌসম ভবন (IMD)। 

বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে তা মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে পৌঁছে যাবে। এর প্রাথমিক অভিমুখ উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে। যদিও আমেরিকান আবহাওয়া মডেল ‘জিএফএস’ (GFS) এই সিস্টেমটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার সম্ভাব্য নাম হতে পারে ‘অর্ণব’ (বাংলাদেশের দেওয়া নাম), তবে ভারতের মৌসম ভবন আপাতত তাকে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ঘনীভূত নিম্নচাপ রূপেই চিহ্নিত করছে।

সমুদ্রে এই উত্তাল পরিস্থিতির কারণে মৎস্যজীবীদের জন্য জারি করা হয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর থেকে মধ্য ও উত্তর বঙ্গোপসাগরের গভীরে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তর ও মধ্য বঙ্গোপসাগরে যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিশেষ করে ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং বাংলাদেশ উপকূলে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে নামার ওপর লাল সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।

কাল সোমবার দক্ষিণবঙ্গের দু’-এক জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টি হলেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। আসল রূপ বদল শুরু হবে মঙ্গলবার থেকে। এ দিন থেকে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। ভারী বৃষ্টির ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু অংশে।

বুধবার দুর্যোগের মাত্রা আরও বাড়বে। এ দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় জারি হয়েছে ‘কমলা সতর্কতা’। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বৃষ্টির পরিধি আরও বিস্তার লাভ করবে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। আর শুক্রবারে দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদীয়ার পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান— এই সাত জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। সমুদ্র সংলগ্ন জেলাগুলিতে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগের দমকা হাওয়ার কমলা সতর্কতা বহাল থাকবে।

অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গে মঙ্গলবার পর্যন্ত আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকবে। দু’-এক জায়গায় হালকা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে বুধবার থেকে উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। বৃহস্পতিবার দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে এবং শুক্রবারে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও উত্তর দিনাজপুর, এই ছয় জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে।

তিলোত্তমা কলকাতার ক্ষেত্রে কাল বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা কম হলেও আংশিক মেঘলা আকাশ ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে। মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি বাড়বে এবং বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, সঙ্গে বইতে পারে ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া। রবিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছুঁয়েছিল ৩২.৪ ডিগ্রি। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৬৮ থেকে ৯৭ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করায় প্যাচপ্যাচে গরমও বহাল রয়েছে।

সব মিলিয়ে পুজোর কেনাকাটার ভরা মরশুমে চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি বৃষ্টিপাতে যে বড়সড় ব্যাঘাত ঘটতে চলেছে, সে বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *