পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। উৎসবের সময় পোশাক, সাজগোজ সবকিছু নিয়েই পরিকল্পনা চলছে, তেমনই অনেকে চাইছেন নিজেকে আরও ফিট করে তুলতে। শরীরের নিচে বাড়তি মেদ জমলে অনেকেরই পছন্দের পোশাক পরতে অস্বস্তি হয়। তাই পুজোর আগে কেউ জিম যাচ্ছেন, আবার কেউ ফলো করছেন স্ট্রিক্ট ডায়েট। কিন্তু ওজন কমানো বা শরীরের বাড়তি মেদ ঝরানো একদিনের কাজ নয়। তার জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা, খাবার-দাবার এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম সবই গুরুত্বপূর্ণ।
[TECHTARANGA-POST:12870]
তবে শরীরের নির্দিষ্ট একটি জায়গার মেদ শুধু একটি ব্যায়াম করেই কমানো যায়, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। নিয়মিত সামগ্রিক শরীরচর্চার সঙ্গে যোগাসন করলে শরীরের নমনীয়তা ও পেশির শক্তি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টি নিয়মিত যোগাসন ও ফিটনেসের জন্য পরিচিত। তাঁর দেখানো আসনগুলির মধ্যে রয়েছে সুপ্ত বজ্রাসন। শরীরের একাধিক অংশে স্ট্রেচ তৈরি হয় এই আসনে।
কীভাবে করবেন সুপ্ত বজ্রাসন?
১। প্রথমে যোগা ম্যাটের উপর সোজা হয়ে বসুন। কয়েক বার ধীরে ধীরে শ্বাস নিন এবং ছাড়ুন।
২। এরপর হাঁটু মুড়ে দুই পায়ের গোড়ালির উপর বসুন। নিতম্ব থাকবে দুই গোড়ালির মাঝখানে। পিঠ সোজা রাখুন।
৩। হাতের তালু এবং কনুইয়ের সাহায্য নিয়ে খুব ধীরে শরীরের উপরের অংশ পিছনের দিকে নামাতে থাকুন। তবে তাড়াহুড়ো করবেন না।
৪. যাঁদের শরীরের নমনীয়তা রয়েছে, তাঁরা ধীরে ধীরে পিঠ এবং মাথার পিছনের অংশ মাটিতে রাখতে পারেন। শুরুতে যদি তা সম্ভব না হয়, জোর করে করার প্রয়োজন নেই।
৫. এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে থাকুন। প্রথম দিকে ২০-৩০ সেকেন্ডের মতো ধরে রাখাই যথেষ্ট। এরপর ধীরে ধীরে আগের অবস্থানে ফিরে আসুন।
৬. প্রায় ১০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিয়ে আবার করতে পারেন। নিয়মিত অভ্যাস থাকলে ধীরে ধীরে সময় ও সেট বাড়ানো যায়। তবে নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী অনুশীলন করাই সবচেয়ে জরুরি।
[TECHTARANGA-POST:12865]
কী কী উপকার হতে পারে?
সুপ্ত বজ্রাসনে শরীরের সামনের অংশ, কোমর, ঊরু এবং পায়ের বিভিন্ন পেশিতে স্ট্রেচ তৈরি হয়। নিয়মিত যোগাভ্যাস শরীরের নমনীয়তা বাড়াতে এবং পেশিকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
এর পাশাপাশি বাড়তি মেদ কমাতে নিয়মিত হাঁটা বা অন্যান্য ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসও প্রয়োজন। যোগাভ্যাসের আরও একটি সুবিধা হল শরীরকে কিছুটা রিল্যাক্স করতে সাহায্য করা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর মনোযোগ বাড়ানো। তবে কোনও নির্দিষ্ট রোগ যেমন থাইরয়েড, হাঁপানি বা হজমের সমস্যা শুধু এই আসন করে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এ ধরনের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
Leave a comment