কলকাতাঃ অক্টোবরেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। তার আগেই রাজ্য রাজনীতিতে ক্রমেই বাড়ছে উত্তাপ। এর মাঝেই আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ শনিবার শ্রীরামপুরে সভা করতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর শ্রীরামপুরে এটা তাঁর প্রথম সভা। আর সেই সভাকে ঘিরেই অনুমতি থেকে শুরু করে পুলিশের তৎপরতা, পরপর তৈরি হয়েছে একাধিক জটিলতা।
[TECHTARANGA-POST:13012]
শ্রীরামপুরের মাহেশের স্নানপিঁড়ি ময়দানে সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাঠের মালিকানা নিয়ে আপত্তি ওঠে। বিষয়টি গড়ায় কলকাতা হাই কোর্টে। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের শেষে বিকল্প জায়গা হিসেবে শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে সভা করার অনুমতি মেলে। হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ শনিবার বিকেল ৪টে থেকে ৬টার মধ্যে সভা করতে পারবে তৃণমূল। জমায়েতে থাকতে পারবেন সর্বাধিক ১,০০০ জন। সভার আগে বা পরে কোনও মিছিল করা যাবে না। গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডে যাতে যানজটের সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
তবে আদালতের অনুমতি পাওয়ার পরও সভার আগে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে পুলিশের চাওয়া তথ্যকে ঘিরে। শুক্রবার আইনজীবীর পোশাকে থানায় হাজির হন অসিত মজুমদার। তাঁর বক্তব্য, “১০ স্বেচ্ছাসেবকের নাম দেওয়া হয়েছে। ২ জনকে গতকাল গ্রেফতার করা হয়েছে। শ্রীরামপুর থানা ও চন্দননগর কমিশনারেট অতিসক্রিয়। আমরা হাই কোর্টের শর্ত মেনেই সভা করব। এইভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা আটকানো যাবে না।”
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের আগে এই সভার যে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে তা বলাই বাহুল্য। দুই কেন্দ্রেই ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর পর তিনি কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন। রেজিনগরেও মমতা শিবিরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেও পরে লড়াইয়ে থাকার কথা জানান। এবার তাঁর সমর্থনে রেজিনগরে প্রচারে যেতে পারেন মমতা নিজেও। যোগ দিতে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
[TECHTARANGA-POST:13007]
উল্লেখ্য, সভার পথে বারবার এসেছে আইনি জটিলতা। প্রথমে মাঠ নিয়ে আপত্তি, আদালতে মামলা, তারপর শর্তসাপেক্ষে সভার অনুমতি সব নিয়েই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। তবে সব জটিলতা কাটিয়ে আগামীকাল ফের শ্রীরামপুরের মঞ্চে দেখা যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এবার সেখান থেকে তিনি কী বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজনৈতিক মহল।
Leave a comment