০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বিশ্ব US-China: শি-ট্রাম্প হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে নজর কাড়ল তাইওয়ান ও এআই!
বিশ্ববিশ্বযুক্তরাষ্ট্র

US-China: শি-ট্রাম্প হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে নজর কাড়ল তাইওয়ান ও এআই!

Share
US-China: শি-ট্রাম্প হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে নজর কাড়ল তাইওয়ান ও এআই!
ওয়াশিংটনের ডিনারে জিংপিং ও ট্রাম্প। ছবি : এক্স
Share

ওয়াশিংটন: সাদা পরচুলা ও ত্রিকোণ টুপি পরা সেনাদল, মাথার ওপর যুদ্ধবিমানের বিকট গর্জন আর ট্রাম্পের গলফ ক্লাবের আদলে নতুন করে সাজানো রোজ গার্ডেন! সমস্ত রাজকীয় আয়োজনে ওয়াশিংটনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অভ্যর্থনা জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এলন মাস্ক, টিম কুক, জেনসেন হুয়াং থেকে স্যাম অল্টম্যান, মার্কিন প্রযুক্তি ও বাণিজ্যজগতের টেক-মোগলদের উপস্থিতিতে চিনের প্রেসিডেন্টের এই সফর আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

দু দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম টানাপোড়েনের মধ্যে এই বৈঠকে উঠে এল বাণিজ্য যুদ্ধ, তাইওয়ান প্রণালীর অস্থিরতা এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো একাধিক স্পর্শকাতর বিষয়। সান্ধ্যভোজে ট্রাম্প ব্যক্তিগত সম্পর্কের রসায়নকে লালন করার বার্তা দিয়ে বলেন, “আমরা দুটি পৃথক শাসনব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করি ঠিকই, তবে আমাদের জনগণের সম্পর্ক অটুট। একসঙ্গে সমৃদ্ধি ও সুরক্ষার পথ তৈরি করব।” জবাবে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেমন ‘আমেরিকাকে আবার মহান’ করে তুলতে চান, তেমনই চিনও ‘জাতীয় পুনরুত্থান’ চায়— এই দুটি লক্ষ্য পরস্পরের পরিপূরক হতে পারে।

তবে বর্ণাঢ্য এই আতিথেয়তার আড়ালে জটিল কূটনীতির ছায়া ছিল স্পষ্ট। গত বছরের বাণিজ্য যুদ্ধের বরফ গলাতে আপাতত দু’দেশের শুল্ক বিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানো হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট জানান, অর্থনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত। কারণ, চিন সোয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতি কিছুটা রাখলেও, ১৭ বিলিয়ন ডলারের অন্যান্য কৃষিপণ্য ও বিরল মৃত্তিকা ধাতু (রেয়ার-আর্থ) সরবরাহে ঘাটতি থেকে গিয়েছে।

বৈঠকে স্পর্শকাতর তাইওয়ান প্রশ্নে ট্রাম্পকে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট। বেজিংয়ের সরকারি সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ করার আর্জি জানান শি। অন্যদিকে, এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। ট্রাম্প যেখানে এআই-এর ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ না রেখে বিচার বিভাগীয় নজরদারির পক্ষে সওয়াল করেন, সেখানে শি জিনপিং স্পষ্ট জানান, বিশ্বের দুই শীর্ষ শক্তির দায়িত্ব এআই প্রযুক্তিকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখা।

নীতিগত আলোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প কেবল রসিকতা করেই বলেন, “শি ভালো গ্রানাইট পছন্দ করেন!” যদিও এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং দীর্ঘমেয়াদী দর কষাকষির আগামী অধ্যায় গোটা বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *