০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ শুভেন্দুর নিহত আপ্ত সহায়কের মা নন্দীগ্রামে বিজেপির বাজি?
পশ্চিমবঙ্গপশ্চিমবঙ্গপূর্ব মেদিনীপুররাজনীতি

শুভেন্দুর নিহত আপ্ত সহায়কের মা নন্দীগ্রামে বিজেপির বাজি?

Share
শুভেন্দুর নিহত আপ্ত সহায়কের মা নন্দীগ্রামে বিজেপির বাজি?
নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের প্রার্থী কি প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা? ছবি : সংগৃহীত
Share

নন্দীগ্রাম: একদা জমি আন্দোলনের আঁতুড়ঘর তথা রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ফের একবার সংবাদের শিরোনামে।

মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের পর তাঁর খালি করা আসনে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। শাসক দল বিজেপির অন্দরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর উত্তরসূরী হিসেবে পদ্ম প্রতীকে ময়দানে নামছেন কে? রাজনীতির উত্তপ্ত বাতাবরণে সবচেয়ে বেশি যাঁর নাম ভেসে আসছে, তিনি হলেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রয়াত আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসি রথ।

নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাস সবসময়ই ঘাত-প্রতিঘাত ও আবেগে ভরা। গত নির্বাচনে এই কেন্দ্রেই দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর জয়ী হয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে আততায়ীদের গুলিতে খুন হন তাঁর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী তথা আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। সেই মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি আজও নন্দীগ্রামের মানুষের মনে টাটকা। চন্দ্রনাথের মা হাসি রথ নিজেও দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়াত চন্দ্রনাথের পরিবারের প্রতি নন্দীগ্রামবাসীর আবেগ এবং হাসি দেবীর নিজস্ব রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে মূলধন করেই এখানে ঘুঁটি সাজাতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব।

প্রার্থীপদ নিয়ে জল্পনার পারদ যখন চড়ছে, তখন বিজেপি ইতিমধ্যেই তাদের রণকৌশল চূড়ান্ত করতে শুরু করে দিয়েছে। রেয়াপাড়ার বিধায়ক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে একটি হাইপ্রোফাইল রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, প্রার্থীর দৌড়ে হাসি রথের নাম প্রথম সারিতে থাকলেও পাশাপাশি অঞ্জন ভারতী, মেঘনাদ পাল এবং প্রলয় পালের মতো স্থানীয় পরিচিত মুখগুলির নামও আলোচনায় রয়েছে। এরা প্রত্যেকেই তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির হেভিওয়েট কার্যকর্তা। তবে তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি মলয় সিনহা এ বিষয়ে অত্যন্ত মেপে পা ফেলছেন। তিনি জানান, “সংগঠন মজবুত করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। ফলে আগে থেকে কিছু বলা সম্ভব নয়।”

অন্যদিকে, এই উপনির্বাচনকে ঘিরে মেদিনীপুরের বিরোধী শিবিরের ছবিটা একেবারেই ঝিমিয়ে পড়া। রাজ্যের ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকেই এলাকায় তৃণমূলের সাংগঠনিক অস্তিত্ব কার্যত সংকটের মুখে। এমনকী উপনির্বাচন উপলক্ষে প্রশাসনিক সর্বদলীয় বৈঠকেও বিরোধীদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। জেলা নেতৃত্বের অধিকাংশ নেতাই রাজনীতি থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। প্রাক্তন মন্ত্রী অখিল গিরি দু-একটি বৈঠকে যোগ দিলেও উপনির্বাচন ঘোষণার পর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের।

সব মিলিয়ে, নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড বলছে এই উপনির্বাচন বিজেপির জন্য স্রেফ একটা আসন রক্ষার লড়াই নয়, বরং নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখার বড় পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষায় চন্দ্রনাথের মা হাসি রথকেই বিজেপি শেষ পর্যন্ত তুরুপের তাস করে কি না, সেদিকেই এখন পলকহীন নজর রাজনৈতিক মহলের।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ 

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *