০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বাংলাদেশ অপরাধ খুন আরও এক বাংলাদেশী হিন্দু, এবার মুদিখানার মালিক
অপরাধবাংলাদেশবাংলাদেশ

খুন আরও এক বাংলাদেশী হিন্দু, এবার মুদিখানার মালিক

Share
Share

ঢাকা: বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর হিংসার ঘটনা থামার নাম নেই। গত ২৪ ঘন্টার মধ্যে দুই হিন্দু পুরুষকে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত ১০ টার দিকে, নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর বাজারে ৪০ বছর বয়সী মণি চক্রবর্তী নামে একজন মুদি দোকানদারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে অজ্ঞাত হামলাকারীরা। গুরুতর আহত মণিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের মতে, আক্রমণটি আকস্মিক ছিল এবং আক্রমণকারীরা পালিয়ে যায়। রাজধানী ঢাকার কাছাকাছি এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। স্থানীয়দের মতে, আক্রমণকারীরা ছিল ধর্মান্ধ এবং শুধুমাত্র মণি হিন্দু হওয়ার কারণেই তারা এই আক্রমণ চালিয়েছে।

গত ১৮ দিনে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এটি ষষ্ঠ টার্গেট কিলিং। এর কয়েক ঘন্টা আগে, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে, যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার কোপালিয়া বাজারে ৪৫ বছর বয়সী রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। রানা প্রতাপের একটি বরফ কারখানা ছিল এবং তিনি নড়াইল জেলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘বিডি খবর’ পত্রিকার  ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকও ছিলেন। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কিছু লোক মোটরসাইকেলে করে এসে তাঁকে কারখানা থেকে বের করে এনে একটি গলিতে নিয়ে যায় এবং মাথায় একাধিক গুলি করে, গলা কেটে পালিয়ে যায়। পুলিশ মৃতদেহ থেকে সাতটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করেছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে রানা প্রতাপের মাথায় তিনটি গুলি লেগেছিল। এই ঘটনাগুলি বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র কাজল দেবনাথ বলেন, শুধুমাত্র ডিসেম্বর মাসেই হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর সাতটি হামলা এবং পাঁচটি হত্যার খবর পাওয়া গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলি সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে।

এই ঘটনাগুলি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে উগ্র ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যার পর শুরু হওয়া ধারাবাহিক হিংসার অংশ। হাদির মৃত্যুর পর, ভারতবিরোধী বিক্ষোভসাম্প্রদায়িক মোড় নেয়, হিন্দু সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে প্রশাসন সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কিছু রিপোর্টে এই আক্রমণগুলিকে ধর্মীয় উগ্রতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, অন্যদিকে সরকার কিছু ঘটনাকে অপরাধমূলক বা ব্যক্তিগত হিসাবে চিহ্নিত করেছে। 

ভারত এই ঘটনাগুলিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অব্যাহত বৈরিতাকে গুরুতর বিষয় হিসাবে বর্ণনা করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলিও বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং সংখ্যালঘুদের উপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের নিন্দা জানিয়েছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles