০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ খামেনেই হত্যাকাণ্ডে মোদির নীরবতা কেন? কাশ্মীর ইস্যু মনে করিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ সোনিয়া গান্ধীর
ভারতবর্ষ

খামেনেই হত্যাকাণ্ডে মোদির নীরবতা কেন? কাশ্মীর ইস্যু মনে করিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ সোনিয়া গান্ধীর

Share
Share

নয়াদিল্লি: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মৌনতা’ নিয়ে এবার সরাসরি সংঘাতের পথে হাঁটলেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। খামেনেই ইস্যুতে কেন্দ্রের এই কৌশলগত নীরবতাকে বিঁধতে গিয়ে তিনি অতীতে কাশ্মীরের কঠিন সময়ে ভারতের পাশে ইরানের দাঁড়ানোর ইতিহাসকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। সোনিয়ার দাবি, বর্তমান সরকার বিদেশনীতির ক্ষেত্রে পুরনো বন্ধুদের অবদান অস্বীকার করে ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে সোনিয়া গান্ধী বলেন, “১৯৯৪ সালে যখন মুসলিম দেশগুলির জোট ‘ওআইসি’ রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশনে কাশ্মীর নিয়ে ভারত-বিরোধী প্রস্তাব এনেছিল, তখন ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল বন্ধু দেশ ইরান। তেহরানের সেই সময়কার গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপের ফলেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীর নিয়ে ভারতের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল।” কংগ্রেস নেত্রীর মতে, সেই সময়ে ভারত যখন অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল, তখন ইরান পাশে না দাঁড়ালে ভারতের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান আরও জটিল হয়ে উঠতে পারত। সেই অবদানের কথা মাথায় রেখে খামেনেই হত্যাকাণ্ডে নয়াদিল্লির অবস্থান ও নীরবতা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করেন তিনি।

সোনিয়া গান্ধী আরও মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমান সরকার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর নীতি থেকেও বিচ্যুত হচ্ছে। ২০০১ সালে বাজপেয়ী যখন তেহরান সফরে গিয়েছিলেন, তখন তিনি দুই দেশের গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্বীকার করেছিলেন। সোনিয়ার বক্তব্য, বর্তমান মোদি সরকারের কাছে বাজপেয়ীর সেই স্বীকৃতি আর প্রাসঙ্গিক নয় বলেই মনে হচ্ছে। খামেনেইয়ের মৃত্যুতে নিশ্চুপ থাকার কৌশলকে তিনি দায়িত্ব থেকে পিছু হটা হিসেবেই দেখছেন।

যদিও কেন্দ্র নিজের অবস্থানেই অনড় রয়েছে। খামেনেই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরাসরি কোনও বাক্য খরচ না করলেও প্রধানমন্ত্রী মোদি মধ্যপ্রাচ্যের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সোমবার এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ভারত বরাবর আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রক্রিয়ায় আগ্রহী এবং দ্বন্দ্বের চেয়ে শান্তির শক্তিই যে বেশি—তাতে ভারত বিশ্বাস করে। সেই সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানালেও খামেনেই হত্যাকাণ্ডে কোনও আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা বা প্রতিক্রিয়া দেয়নি ভারত সরকার। মূলত এই ‘উদাসীনতা’ ঘিরেই এখন জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিবাদের সুর চড়াচ্ছেন সোনিয়া গান্ধী।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *