০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বাংলাদেশ গান নাকি হারাম! সুর-ছন্দ কানে এলেই ‘কবুল হ্যায়’ পড়াবেন না কাজী! ভারত সীমান্তে…
বাংলাদেশ

গান নাকি হারাম! সুর-ছন্দ কানে এলেই ‘কবুল হ্যায়’ পড়াবেন না কাজী! ভারত সীমান্তে…

Share
গান নাকি হারাম! সুর-ছন্দ কানে এলেই 'কবুল হ্যায়' পড়াবেন না কাজী! ভারত সীমান্তে...
Share

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা–এর একটি গ্রামে মসজিদ কমিটির জারি করা একটি নোটিশ ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই নোটিশে গ্রামে গানবাজনা বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়। এমনকি ইঙ্গিত দেওয়া হয়, বিয়েবাড়িতে গান বাজানো হলে স্থানীয় ইমামরা সেখানে বিয়ে পড়াতে নাও যেতে পারেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মসজিদ কমিটির তরফে টাঙানো ওই নোটিশে বলা হয় — গান ও বাদ্যযন্ত্র ইসলামের দৃষ্টিতে অনুচিত। সেই যুক্তিতে গ্রামে বিয়েবাড়ি, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা দোকানে গান বাজানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। বিষয়টি সামনে আসতেই গ্রামজুড়ে আলোচনা শুরু হয় এবং সামাজিক মাধ্যমেও তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

এই নির্দেশ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, যেহেতু নির্দেশটি এসেছে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান — মসজিদ থেকে, তাই এটি সমাজের উপর একধরনের সামাজিক চাপ তৈরি করতে পারে। আবার অন্য একাংশের মতে, এটি ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষার উদ্যোগ।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আইনগত ক্ষমতা ছাড়া কোনো সংগঠন এ ধরনের নির্দেশ জারি করতে পারে না। পরে গ্রাম থেকে সংশ্লিষ্ট নোটিশ ও ব্যানার সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এর ভৌগোলিক অবস্থান। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সরাসরি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে। সীমান্তের ওপারেই রয়েছে মালদা জেলা এবং মুর্শিদাবাদ জেলা। অর্থাৎ – পশ্চিমবঙ্গের একেবারে সীমান্তের কাছেই এই ঘটনা ঘটেছে।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ লোকসভা সদৃশ সংসদীয় আসন থেকে ম. নূরুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। অর্থাৎ, সীমান্তবর্তী এই জেলার সাংসদই একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি।

এই প্রেক্ষাপটে মসজিদ থেকে জারি হওয়া এমন নির্দেশকে অনেক পর্যবেক্ষক ধর্মীয় উগ্রতার লক্ষণ হিসাবেও দেখছেন। তাঁদের মতে, সীমান্তের এত কাছাকাছি অঞ্চলে ধর্মীয় বিধিনিষেধের নামে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত। সেই সময়ে ভারতের সীমান্তের ঠিক পাশেই এমন ঘটনা সামনে আসায় অনেকের মতে এটি পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারতের পক্ষেও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সামাজিক স্থিতিশীলতা দুই দেশের জন্যই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ — এমনই মত বিশ্লেষকদের একাংশের।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles