০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বাংলাদেশ বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা শুরু, স্পিকার হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহমদ
বাংলাদেশবাংলাদেশ

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা শুরু, স্পিকার হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহমদ

Share
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা শুরু, স্পিকার হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহমদ
হাফিজ উদ্দীন আহমদ বীর বীক্রম । ছবিঃ বাংলাদেশ টেলিভিশন
Share

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন দিয়ে। বৃহস্পতিবার প্রথম বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো নতুন সংসদের কার্যক্রম। তবে এই সংসদ রাজনৈতিক বাস্তবতার দিক থেকে ব্যতিক্রমী—কারণ দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর একটি অংশ এতে অনুপস্থিত।

[TECHTARANGA-POST:7227]

প্রথম অধিবেশনে কণ্ঠভোটে স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। পরে নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। দুপুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদ ভবনে তাদের শপথ পড়ান।

সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধিবেশনের শুরুতে বক্তব্য দিয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে সব দলের সহযোগিতা কামনা করেন।

বড় দল ছাড়াই সংসদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—এবারের সংসদে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ দেশের কয়েকটি বড় রাজনৈতিক দল নেই। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়নি। একইভাবে জাতীয় পার্টিও কার্যত সংসদের বাইরে রয়েছে।

ফলে সংসদে প্রধান শক্তি হিসেবে রয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এবং তাদের সহযোগী রাজনৈতিক দলগুলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় বিরোধী শক্তির অনুপস্থিতিতে সংসদের বিতর্ক, আইন প্রণয়ন এবং নীতিনির্ধারণের ধরন ভিন্ন রূপ নিতে পারে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে বিভিন্ন সময় সংসদ বর্জন বা বড় দলের অনুপস্থিতির নজির রয়েছে। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ অংশ নেয়নি। সেই সংসদ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে দেওয়া হয় এবং পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

একইভাবে বিভিন্ন সময়ে বিরোধী দল সংসদ বর্জন করায় কার্যত একদলীয় বা একপাক্ষিক সংসদ পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে। তবে এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন—কারণ দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন, আন্দোলন এবং ক্ষমতার পালাবদলের পর এই সংসদ গঠিত হয়েছে।

নতুন সংসদের চ্যালেঞ্জ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর রাখা। বড় রাজনৈতিক দলের অনুপস্থিতিতে সংসদের গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতা নিয়েও আলোচনা চলছে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সংসদ সব দলের জন্য উন্মুক্ত এবং জাতীয় স্বার্থে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:7183]

এই প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুধু আইন প্রণয়নেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনাও অনেকটাই নির্ধারণ করতে পারে এই সংসদের ভূমিকা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles