ঢাকা: বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে আজ এক অভূতপূর্ব ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি জামায়াতের নেতৃত্বে বিরোধী দলের নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনটি হয়ে উঠেছিল উত্তপ্ত। অনেক বিশ্লেষক আজকের এই পরিস্থিতির সঙ্গে পাকিস্তানের সংসদীয় রীতির মিল খুঁজে পাচ্ছেন।
[TECHTARANGA-POST:7243]
বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন যখন অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন, তখনই বিরোধী জামাত সদস্যরা বিক্ষোভ শুরু করেন। জাতীয় সংগীত চলাকালীন সরকারি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করলেও জামাত জোটের সদস্যরা শুরুতে বসেই ছিলেন, যদিও গানের মাঝপথে তারা দাঁড়ান।
[TECHTARANGA-POST:7240]
রাষ্ট্রপতি যখন তার নির্ধারিত ভাষণ দিতে ডায়াসে দাঁড়ান, তখন জামায়াত-এনসিপি জোটের সদস্যরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা রাষ্ট্রপতিকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন অবমাননাকর স্লোগান দিতে থাকেন। বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং হাসনাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে স্লোগান ওঠে— ‘ফ্যাসিবাদ ও গণতন্ত্র একসাথে চলবে না’। এ সময় টেবিল চাপড়ে ও চিৎকার করে সংসদ কক্ষে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়।
[TECHTARANGA-POST:7228]
বিক্ষোভ চলাকালে কোনো মাইক ছাড়াই বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, গ্রেফতার ও ইমপিচমেন্টের দাবি জানান। তিনি রাষ্ট্রপতিকে ‘ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের সহযোগী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পরিস্থিতির এক পর্যায়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ রাষ্ট্রপতির ডায়াসের দিকে তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপনেতা তাকে বাধা দিয়ে কক্ষের বাইরে নিয়ে যান।
[TECHTARANGA-POST:7231]
প্রায় চার মিনিট অচলাবস্থার পর রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ শুরু করেন। তবে বিরোধী দলের স্লোগান ও বিক্ষোভ চলতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তারা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতেই রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ শেষ করেন এবং এরপর স্পিকার অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।
Leave a comment