০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বাংলাদেশ যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের জন্য বাংলাদেশের সংসদে শোক
বাংলাদেশ

যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের জন্য বাংলাদেশের সংসদে শোক

Share
যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের জন্য বাংলাদেশের সংসদে শোক
ছবি: সংগৃহীত
Share

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এক নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম হয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাতজনের নাম সংসদের শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

বৃহস্পতিবার সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর রেওয়াজ অনুযায়ী শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। সেই শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করা হয় জামায়াতে ইসলামীর ছয়জন শীর্ষ নেতার নাম—মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, আব্দুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, মীর কাসেম আলী এবং দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। এর পাশাপাশি বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সংসদের আলোচনার পর এই শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়।

এই সাতজনই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের আওতায় বিচার শেষে তাদের দণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়, আর আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছিল, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে তাদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্তদের অনেকেই সেই সময় পাকিস্তানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন।

এই প্রেক্ষাপটে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে তাদের নাম শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের মতে, যে ব্যক্তিরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে আদালতের রায়ে দণ্ডিত হয়েছেন, তাদের জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনসভায় শোকপ্রকাশ করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles