০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ অপরাধ ওষুধ ভেবে শিশুর শরীরে বিষাক্ত কেমিক্যাল! ভোপাল AIIMS-এর চরম গাফিলতিতে অকালে ঝরল ব্লাড ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর প্রাণ!
অপরাধভারতবর্ষস্বাস্থ্য

ওষুধ ভেবে শিশুর শরীরে বিষাক্ত কেমিক্যাল! ভোপাল AIIMS-এর চরম গাফিলতিতে অকালে ঝরল ব্লাড ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর প্রাণ!

Share
ওষুধ ভেবে শিশুর শরীরে বিষাক্ত কেমিক্যাল! ভোপাল AIIMS-এর চরম গাফিলতিতে অকালে ঝরল ব্লাড ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর প্রাণ!
ছবি সংগৃহীত
Share

ভোপাল: মধ্যপ্রদেশের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-এ চিকিৎসায় চরম ও হাড়হিম করা গাফিলতির অভিযোগ উঠল। ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত এক শিশুকে জীবনদায়ী ওষুধের পরিবর্তে ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হলো অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক ‘ফর্মালিন’!

[TECHTARANGA-POST:9914]

 এই ভয়ঙ্কর ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ৩ বছরের এক নিষ্পাপ শিশু। মৃত শিশুর নাম সার্থক যাদব। হাসপাতালের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ তদন্তেই এই মারাত্মক গাফিলতির অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। যার ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই কর্তব্যরত দুই নার্সিং আধিকারিককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ভোপালের বাগসেওনিয়া থানার পুলিশ অভিযুক্ত দুই নার্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। দেশের অন্যতম শীর্ষ সরকারি হাসপাতালের এমন অবিশ্বাস্য গাফিলতিতে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9936]

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলার বাসিন্দা ৩ বছর বয়সী শিশু সার্থক লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর তাকে ভোপাল এআইআইএমএস-এর শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়। তদন্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে এক মারাত্মক তথ্য। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির আইভি (IV) লাইন হঠাৎ ব্লক হয়ে গেলে কর্তব্যরত এক নার্স সেটি সচল করতে পাশ থেকে ওষুধ ভেবে একটি সিরিঞ্জ তুলে নেন এবং তা শিশুর শরীরে পুশ করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সেই সিরিঞ্জটিতে সাধারণ কোনও ওষুধ ছিল না, বরং তাতে ভরা ছিল তরল ফর্মালিন। এই ফর্মালিন মূলত প্যাথলজি বিভাগে মানবদেহের টিস্যু, বায়োপসি নমুনা কিংবা মর্গ বা মৃতদেহ সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত একটি তীব্র বিষাক্ত রাসায়নিক।

[TECHTARANGA-POST:9922]

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, সার্থকের ঠিক আগেই অন্য এক রোগীর বায়োপসি প্রক্রিয়ার জন্য ওই ফর্মালিন ভর্তি সিরিঞ্জটি আনা হয়েছিল। কিন্তু সেই কাজ স্থগিত হয়ে যাওয়ার পরেও সিরিঞ্জটি নিয়ম মেনে নিরাপদে নষ্ট বা নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করা হয়নি। চিকিৎসকদের চরম উদাসীনতায় সেটি রোগীর শয্যার পাশেই অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে জীবন কাড়ল এই শিশুর। বিষাক্ত ওই রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই সার্থক অচেতন হয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি তাকে পেডিয়াট্রিক আইসিইউ-তে (PICU) স্থানান্তরিত করে সিপিআর-সহ সমস্ত ধরণের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষরক্ষা করা যায়নি। অভ্যন্তরীণ তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর অভিযুক্ত দুই নার্সিং আধিকারিকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *