০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বাংলাদেশ দুর্ঘটনা ঘুমের মাঝেই চিরতরে চাপা পড়ল আস্ত পরিবার! ওপার বাংলায় প্রকৃতির তাণ্ডব, ধসে আরও ৭ জনের মৃত্যু
দুর্ঘটনাবাংলাদেশ

ঘুমের মাঝেই চিরতরে চাপা পড়ল আস্ত পরিবার! ওপার বাংলায় প্রকৃতির তাণ্ডব, ধসে আরও ৭ জনের মৃত্যু

Share
ঘুমের মাঝেই চিরতরে চাপা পড়ল আস্ত পরিবার! ওপার বাংলায় প্রকৃতির তাণ্ডব, ধসে আরও ৭ জনের মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত
Share

ঢাকা: ওপার বাংলায় প্রকৃতির রুদ্ররূপের জেরে পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে। টানা ভারী বর্ষণের জেরে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলগুলিতে একের পর এক ভয়ংকর পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে চলেছে। বৃহস্পতিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই সেই ধসের কবলে পড়ে প্রাণ হারালেন আরও ৭ জন। এর মধ্যে কক্সবাজারে মাটির তলায় চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ২ নিষ্পাপ শিশুর এবং বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় একই পরিবারের ৩ সদস্য-সহ মোট ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সাল থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত লাগাতার ধসের কারণে বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের যৌথ টিম বর্তমানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।

[TECHTARANGA-POST:10759]

বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা এলাকায় আর পাঁচটা দিনের মতোই বৃহস্পতিবার শান্ত পরিবেশ ছিল। কিন্তু ভোর ৪টে নাগাদ আচমকাই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। পাহাড়ের বিশাল অংশ হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে নিচে থাকা বসতিগুলোর ওপর। চোখের নিমেষে মাটির নিচে পুরোপুরি চাপা পড়ে যায় আস্ত একটি বাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগালেও মাটির গভীরতা এতটাই বেশি ছিল যে ভেতরে থাকা তিন জন ঘুমন্ত মানুষকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বান্দরবানের পুলিশ সুপার মহম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার জানান, লামায় পৃথক দুটি ধসের ঘটনায় শিশু-সহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:10680]

প্রথম ধসের রেশ কাটতে না কাটতেই ঠিক দেড় ঘণ্টা পর, ভোর ৫টা ৪০ মিনিট নাগাদ ওই একই এলাকার মিশনপাড়ায় দ্বিতীয়বার ধস নামে। প্রবল বৃষ্টির কারণে আলগা হয়ে যাওয়া পাহাড়ের মাটি ও ঘরের ভারী দেওয়াল ভেঙে পড়ে ঘুমন্ত এক দম্পতির ওপর। ঘটনাস্থলেই পিষে গিয়ে মৃত্যু হয় স্বামী-স্ত্রী মহম্মদ জুয়েল (৩৪) এবং কুলছুমা আক্তারের (২৫)। অন্যদিকে, একই দিনে কক্সবাজারের চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের মোহছেনিয়া কাটাপাহাড়ি গ্রামেও পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে দুই শিশুর ওপর। ঘুমের ঘোরেই মৃত্যু হয় ওই দুই শিশুর, এবং গুরুতর আহত অবস্থায় এক তরুণীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:10746]

টানা বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি অঞ্চলগুলোর পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরও। গত রবিবারই ধসের কবলে পড়ে ৯ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছিল, আর বুধবারও প্রাণ হারিয়েছেন ৮ জন। তার ওপর বৃহস্পতিবারের এই নতুন করে ৭ জনের মৃত্যুর ঘটনা প্রশাসনের চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন এই অতিভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকবে, যার ফলে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের তড়িঘড়ি নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles