০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা অর্থনীতি ১ মাসে ১০০০ কোটি লক্ষ্মীলাভ! ভাইপোর চুরির রাস্তা বন্ধ করতেই উপচে পড়ছে বদলের বাংলার কোষাগার
অর্থনীতিকলকাতাপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

১ মাসে ১০০০ কোটি লক্ষ্মীলাভ! ভাইপোর চুরির রাস্তা বন্ধ করতেই উপচে পড়ছে বদলের বাংলার কোষাগার

Share
১ মাসে ১০০০ কোটি লক্ষ্মীলাভ! ভাইপোর চুরির রাস্তা বন্ধ করতেই উপচে পড়ছে বদলের বাংলার কোষাগার
ছবি--প্রতীকী
Share

কলকাতা: বিপুল ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে নতুন বিজেপি সরকার যখন পথ চলা শুরু করেছিল, তখন বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছিল—উন্নয়ন আর কর্মসংস্থানের টাকা আসবে কোথা থেকে? কিন্তু মাত্র এক মাসেই সেইসব প্রশ্নের মুখে কার্যত ঝাড়ু মেরে দিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। গত ৯ মে সরকার গঠনের পর থেকে ৯ জুন পর্যন্ত, মাত্র এক মাসে রাজ্যের রাজস্ব আদায় গত বছরের ঠিক একই সময়ের তুলনায় এক ধাক্কায় ১ হাজার কোটি টাকা বেড়ে গিয়েছে! নবান্ন ও অর্থদপ্তর সূত্রে এই খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি আর ‘জল গলে যাওয়ার পথ’ বন্ধ করেই যে কোষাগার ভরানো সম্ভব, তা হাতেকলমে প্রমাণ করে দিল পরিবর্তনের বাংলা।

কলকাতায় বৃষ্টির দাপট! টানা বৃষ্টিতে চিনার পার্ক কার্যত জলমগ্ন! হলদিরামের সামনে জলের তলায় গাড়ি, ভোগান্তি চরমে

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে বলেছিলেন, বীরভূমের পাথর খাদান থেকে আগে যেখানে বছরে মাত্র আট কোটি টাকা রাজস্ব পেত সরকার, সেখানে সততার সরকার আসতেই মাত্র এক মাসে আদায় হয়েছে ৮৩ কোটি টাকা। মুখ্যমন্ত্রীর চাঁছাছোলা অভিযোগ ছিল, বীরভূমের পাথর ও খনিজের বিপুল টাকা আগে সরকারি কোষাগারে না গিয়ে ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে সরাসরি দুবাই উড়ে যেত, যার মাধ্যমে ‘ভাইপো’ একাই বছরে প্রায় ১১০০ কোটি টাকা চুরি করত। শুধু বীরভূমই নয়, নবান্ন সূত্রে খবর, আগে যে নির্দিষ্ট পাথর খাদান থেকে বছরে মাত্র ৬০ কোটি টাকা মিলত, এখন সেখান থেকেই প্রতি মাসে কোষাগারে আসছে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকা। চুরির এই আন্তর্জাতিক রুট বন্ধ হওয়াতেই ম্যাজিকের মতো কাজ হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

[TECHTARANGA-POST:10772]

বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে জমি কেনাবেচার রেজিস্ট্রি আর আবগারি দপ্তরের আয়ের ওপরই মূলত নির্ভর করত রাজ্য। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে বালি, কয়লা ও পাথর খাদানের মতো ক্ষেত্রগুলি থেকে বানের জলের মতো রাজস্ব ফাঁকি হওয়া বন্ধ করা গেছে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনলাইন টেন্ডার ও ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে দুর্নীতি রোখার দাবি করলেও, বাস্তবে বেহুলা-লখিন্দরের লৌহবাসরের ছিদ্রর মতোই প্রযুক্তির আড়ালে বিপুল চুরি চলত। এই রাজস্ব লুঠের পেছনে রাজনীতি ও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের যে যোগসাজশ ছিল, তা এবার আমজনতার সামনে আনতে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর নেতৃত্বে মন্ত্রিগোষ্ঠী ইতিমধ্যেই শ্বেতপত্র প্রকাশের কাজ শুরু করে দিয়েছে। এমনকি এই বিপুল চুরির টাকা তৃণমূলের ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ইডি তদন্ত শুরু করেছে এবং দলীয় অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার প্রক্রিয়াও নজরে রয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:10771]

অর্থদপ্তরের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, বাজেটের বরাদ্দ টাকা পুরোটাই যে রাজ্যকে ধার করে চালাতে হবে এমনটা নয়। যদি শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক চুরি আর তোলাবাজি আটকে দেওয়া যায়, তবে বাংলার নিজস্ব আয় থেকেই সমস্ত সামাজিক উন্নয়ন ও পরিকাঠামো খাতের খরচ অনায়াসে জোগানো সম্ভব। শুভেন্দু অধিকারীর এই কঠোর ও সৎ প্রশাসনিক নজরদারির ফলেই যে বাংলা আজ দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বেঁচে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তা এক মাসের এই ১০০০ কোটির রেকর্ড রাজস্ব বৃদ্ধিই প্রমাণ করে দিচ্ছে। বিগত সরকারকে পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়ে বদলের বাংলা এখন উন্নয়নের নতুন দিশা দেখাচ্ছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *