০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট মামলায় বড় মোড়! ঋতব্রত শিবিরের আর্জি খারিজ হাই কোর্টে
পশ্চিমবঙ্গরাজনীতিরাজনীতি

তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট মামলায় বড় মোড়! ঋতব্রত শিবিরের আর্জি খারিজ হাই কোর্টে

Share
তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট মামলায় বড় মোড়! ঋতব্রত শিবিরের আর্জি খারিজ হাই কোর্টে
ঋতব্রত শিবিরের আর্জি খারিজ হাই কোর্টে। ছবি-সংগৃহীত
Share

কলকাতা: তৃণমূলের কয়েকশো কোটি টাকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করাকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াই এবার এক নতুন মাত্রা নিল। সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে এই মামলায় পক্ষভুক্ত বা ‘পার্টি’ হওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির, যারা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছে। কিন্তু বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ সরাসরি সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, দলের আসল কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে, সেই বিষয়টি যেহেতু ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দরবারে বিচারাধীন রয়েছে, তাই উচ্চ আদালত এখনই এই রাজনৈতিক ও আইনি দ্বন্দ্বে জড়াতে চায় না।

এদিনের শুনানিতে কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের সমস্ত কাজকর্ম স্তব্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই একের পর এক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করা হচ্ছে। ইডি এ পর্যন্ত মোট আটটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করেছে। গত মে মাসের ৪ তারিখের আগে এই অ্যাকাউন্টগুলোর টাকা ব্যবহার করেই প্রার্থীরা নির্বাচনে লড়েছিলেন, তখন কোনো প্রশ্ন না উঠলেও এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এর পাল্টা জবাবে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) আইনজীবী আদালতে এক বিস্ফোরক দাবি করেন। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, তৃণমূলের সব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করা হয়নি, মাত্র তিনটি করা হয়েছে এবং বাকি অ্যাকাউন্টগুলিতে এখনও ১৬৪ কোটি টাকা মজুত রয়েছে, যা দিয়ে দলের দৈনন্দিন কাজ অনায়াসে চলতে পারে। ইডির যুক্তি, এই পদক্ষেপ না করা হলে বিপুল পরিমাণ টাকা দুবাই বা কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের মতো জায়গায় পাচার হয়ে যেতে পারে, যা পরে আর উদ্ধার করা সম্ভব হবে না।

শুনানি চলাকালীন আলিপুর আদালতের একটি পুরনো নির্দেশিকা তুলে ধরে কালীঘাট শিবিরের মামলা করার অধিকার নিয়েই প্রশ্ন তোলে ইডি। এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও জানতে চান, নিম্ন আদালতের মামলায় মমতাপন্থী তৃণমূলকে আদেও পক্ষভুক্ত করা হয়েছিল কি না। জবাবে সিংভি জানান, সেখানে কাউকে পার্টি না করেই একতরফা নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরই বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, নিম্ন আদালতের বিচারকের কি কোনো ব্যক্তিকে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষমতা দেওয়ার এক্তিয়ার আছে? পাশাপাশি এই বিষয়ে ইডি পুলিশের কাছ থেকে কোনো রিপোর্ট নিয়েছিল কি না, তাও জানতে চান তিনি। জবাবে ইডি জানায়, সিডিউলড অফেন্স বা তপশিলভুক্ত অপরাধের ক্ষেত্রে এমন রিপোর্টের কোনো প্রয়োজন পড়ে না। সোমবার দু’পক্ষের এই দীর্ঘ ও তীব্র সওয়াল-জবাব শোনার পর মামলার রায়দান আপাতত স্থগিত রেখেছে কলকাতা হাই কোর্ট।

[TECHTARANGA-POST:10915]

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles