০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home আরও খবর সেপটিক ট্যাঙ্কে বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু! হাসপাতালেও মিলল না অক্সিজেন, চন্দ্রকোনায় তুলকালাম
আরও খবরদুর্ঘটনাপশ্চিম মেদিনীপুরপশ্চিমবঙ্গ

সেপটিক ট্যাঙ্কে বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু! হাসপাতালেও মিলল না অক্সিজেন, চন্দ্রকোনায় তুলকালাম

Share
সেপটিক ট্যাঙ্কে বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু! হাসপাতালেও মিলল না অক্সিজেন, চন্দ্রকোনায় তুলকালাম
সেপটিক ট্যাঙ্কে বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু! ছবি- সংগৃহীত
Share

চন্দ্রকোনা: সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়েছিলেন বাবা ও ছেলে। কিন্তু তাঁদের সেই মর্মান্তিক পরিণতিকে আরও ত্বরান্বিত করল হাসপাতালের চরম গাফিলতি! হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরও সময়মতো মিলল না একটুও অক্সিজেন। চিকিৎসার এই চরম অব্যবস্থার জেরে শেষ পর্যন্ত ছটফট করতে করতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন পরিবারের দুই সদস্য। রবিবার বেলা নাগাদ পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা-২ ব্লকের কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোয়াডাঙা গ্রামে এই হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটেছে। একই পরিবারের জোড়া মৃত্যুর জেরে গোটা এলাকায় এখন শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম সুনীল পণ্ডিত (৫৯) এবং তাঁর ছেলে লক্ষণ পণ্ডিত। রবিবার দুপুরে গ্রামের একটি নির্মীয়মাণ আবাস যোজনার বাড়ির বাথরুমের ঢালাই চেম্বারের স্ল্যাব খুলে পরিষ্কারের কাজ করছিলেন তাঁরা। ট্যাঙ্কের ঢাকনা খুলতেই প্রথমে এক শ্রমিক ভেতরে নামেন এবং মুহূর্তের মধ্যে বিষাক্ত গ্যাসের জেরে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করতে ট্যাঙ্কের ভেতর একে একে নেমেছিলেন সুনীল ও লক্ষণ। কিন্তু গ্যাসের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তিন জনই ভেতরেই সংজ্ঞাহীন হয়ে আটকে পড়েন। পরে প্রতিবেশীরা টের পেয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান।

ট্যাঙ্ক থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গেলেও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর শুরু হয় আসল নারকীয় পরিস্থিতি। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় রোগীদের হাসপাতালে আনা হলেও সেখানে সময়মতো পর্যাপ্ত অক্সিজেনের কোনো বন্দোবস্তই করা হয়নি। আর তার ফলেই পরিস্থিতি দ্রুত হাতের বাইরে চলে যায় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়। বর্তমানে আরও এক ব্যক্তি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। খবর পেয়ে চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। তবে এই মৃত্যুর পেছনে সেপটিক ট্যাঙ্কের বিষাক্ত গ্যাস নাকি হাসপাতালের অক্সিজেনের অভাব দায়ী— তা নিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের কোনো প্রতিক্রিয়া না মেলায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:10916]

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *