০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home প্রাকৃতিক দুর্যোগ দক্ষিণ এশিয়া ‘দেরি না হলে ভেসে যেতাম আমরাও!’ নেপালের বিধ্বংসী হড়পা বান থেকে ফিরে রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন পর্যটকেরা
দক্ষিণ এশিয়াপরিবেশ ও আবহাওয়াপ্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রাকৃতিক দুর্যোগবিশ্বভারতবর্ষ

‘দেরি না হলে ভেসে যেতাম আমরাও!’ নেপালের বিধ্বংসী হড়পা বান থেকে ফিরে রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন পর্যটকেরা

Share
Share

মুম্বই: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নেমে আসা ভয়াবহ হড়পা বানের গ্রাস থেকে অবশেষে ঘরের মাটিতে পা রাখলেন মহারাষ্ট্রের ৪১ জন পর্যটক। কৈলাস-মানস সরোবর দর্শন সেরে ফেরার পথে আচমকাই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিলেন তাঁরা। শনিবার মুম্বই বিমানবন্দরে নামার পর স্বজনদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন পুণ্যার্থীরা। মুখে একটাই কথা— ঈশ্বর যেন অলৌকিক ভাবেই হাত ধরে মৃত্যুর মুখ থেকে তাঁদের ফিরিয়ে এনেছেন। চেন্নাইয়ের দলের পর এ বার মুম্বইয়েও ফিরে এসেছেন পর্যটকদের একাংশ।

গত বুধবার সকালে নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ধেয়ে আসে প্রলয়ঙ্কর হড়পা বান। চোখের নিমেষে ভাসিয়ে নিয়ে যায় একের পর এক জনপদ। এমনকি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় তিব্বত সীমান্তের গিরং অভিবাসন দফতরও, যেখানে কৈলাস যাত্রীদের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। সেই সময় সেখানে পৌঁছনোর কথা থাকলেও মাঝপথে দলের কয়েকজন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় যাত্রা সাময়িক পিছিয়ে যায়। আর সেই সামান্য দেরিই কার্যত প্রাণ বাঁচায় অনেকের। তিব্বতের সাগায় আটকে পড়া পর্যটক স্মিতা পাওয়ার আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, নির্দিষ্ট সময়ে গিরং সীমান্তে পৌঁছলে হড়পা বানের জলেই চিরতরে তলিয়ে যেতেন তাঁরা।

মহারাষ্ট্র প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য থেকে মোট ৪০৪ জন পর্যটক নেপাল গিয়েছিলেন এবং প্রত্যেকেই নিরাপদ আছেন। ইতিমধ্যেই ৩৩৮ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকিদেরও দ্রুত ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা চলছে। পরিবারকে ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন পরিজনেরাও। বোরিভালির বাসিন্দা সুবোধ শাঠ জানান, গত ৪৮ ঘণ্টার চরম উদ্বেগের পর স্ত্রীকে জীবিত দেখতে পেয়েই প্রাণ ফিরে এসেছে। নেপাল জুড়ে এই বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩৪-এ এবং নিখোঁজের সংখ্যা আড়াই হাজার ছুঁইছুঁই, যার মাঝে এই ৪১ জনের ঘরে ফেরা যেন এক অবিশ্বাস্য দ্বিতীয় জীবন।

[TECHTARANGA-POST:12116]

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles