০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home দুর্ঘটনা কলকাতা টানা বৃষ্টিতে নিউ ফরাক্কায় ট্র্যাকের নীচে ছয় ফুট গভীর ধস, ট্রেনের লাইনে জেসিবি— একের পর এক এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল
কলকাতাদুর্ঘটনাদুর্ঘটনাপশ্চিমবঙ্গপ্রাকৃতিক দুর্যোগমুর্শিদাবাদ

টানা বৃষ্টিতে নিউ ফরাক্কায় ট্র্যাকের নীচে ছয় ফুট গভীর ধস, ট্রেনের লাইনে জেসিবি— একের পর এক এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল

Share
Share

ফরাক্কা: প্রবল বৃষ্টি আর রেললাইনের মাটি ধসে যাওয়া— এই জোড়া ফলায় স্তব্ধ উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গের মূল রেল সংযোগ ব্যবস্থা। বৃহস্পতিবার ভোরের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় অতিক্রান্ত, কিন্তু কাজের মাঝেই নিউ ফরাক্কা স্টেশন ও ফরাক্কা ব্যারেজের প্রবেশ মুখে ফের নতুন করে নামল ধস। শুক্রবার সকালে সেই ধসের গভীরতা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ছয় ফুটে! ধসের টানে বেঁকে গিয়েছে ওভারহেড ইলেকট্রিক পোল (OHE Pole)। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুটি জেসিবি এনে ট্র্যাক থেকে খানিক দূরে পাইলিং এবং বস্তায় ডাস্ট ভরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আপ লাইন মেরামতির কাজ চালাচ্ছেন রেলকর্মীরা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ নিরাপদ ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়া দূর অস্ত।

শুক্রবার মালদহ ডিভিশনের তরফে জানানো হয়েছে, রাত ১টা ২০ মিনিট থেকে তিলডাঙা-নিউ ফরাক্কা সেকশনের আপ লাইনে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখা হলেও, পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে ডাউন লাইনে সিঙ্গল ট্র্যাকে অত্যন্ত ধীর গতিতে কিছু ট্রেন চালানো হচ্ছে। কিন্তু উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে রেলকে। কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, গৌড় এক্সপ্রেস, দার্জিলিং মেল, পদাতিক এক্সপ্রেস, শিয়ালদহ-সবরুম কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের মতো একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাতিল হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি শতাব্দী এক্সপ্রেস, তেভাগা এক্সপ্রেস, তিস্তা-তোস্তা এক্সপ্রেস, মালদহ টাউন ইন্টারসিটি এবং সাহেবগঞ্জ-মালদা টাউন মেমু ট্রেন। বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, কামাখ্যা এক্সপ্রেস ও জোগবনী এক্সপ্রেসের মতো ভারী ট্রেনগুলিকে ঘুরপথে কাটিহার, নাথপুর বা মোকামা রুট দিয়ে পাঠানো হচ্ছে।

ট্রেন বাতিলের কারণে চূড়ান্ত ভোগান্তির মুখে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। গন্তব্যে পৌঁছতে বাধ্য হয়ে বাস ও বিমানের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের। উত্তরবঙ্গগামী সরকারি-বেসরকারি বাসের টিকিটের দাম রাতারাতি আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে, প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া হেঁকে পকেট কাটা হচ্ছে যাত্রীদের। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিমানের ভাড়াও।

উল্লেখযোগ্যভাবে, বৃহস্পতিবার ভোর ৩টে ১০ মিনিট নাগাদ প্রথম যখন ফরাক্কা ব্যারেজের মুখে ২০ ফুট লাইন বসে যায়, তখন টহলদারিতে থাকা রেল গ্যাংম্যানদের তৎপরতায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছিল। লাল পতাকা দেখিয়ে ট্রেন থামিয়ে খবর দেওয়া হয় কন্ট্রোলরুমে। কিন্তু একের পর এক নতুন ধস নামায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে কালঘাম ছুটছে রেল কর্তৃপক্ষের। কখন পরিষেবা পুরোপুরি ছন্দে ফিরবে, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছুই জানাতে পারছেন না আধিকারিকেরা।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles