০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ পশ্চিম মেদিনীপুর Sumit Roy: সুজয় হাজরার বাড়়িতে বিস্ফোরক নথি! দখল ও জাল নথির চক্রে আরও চাপে সুমিত
পশ্চিম মেদিনীপুরপশ্চিমবঙ্গপশ্চিমবঙ্গ

Sumit Roy: সুজয় হাজরার বাড়়িতে বিস্ফোরক নথি! দখল ও জাল নথির চক্রে আরও চাপে সুমিত

Share
Sumit Roy: সুজয় হাজরার বাড়়িতে বিস্ফোরক নথি! দখল ও জাল নথির চক্রে আরও চাপে সুমিত
শালবনি-কাণ্ডে আর চাপে গ্রেফতার সুমিত রায়। ফাইল ছবি
Share

মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি জমি হস্তান্তরের বড়সড় কেলেঙ্কারিতে ক্রমেই ফাঁস শক্ত হচ্ছে অভিষেকের প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের। সরকারি জমির ভুয়া মালিকানা তৈরি, জাল নথিপত্রের সাহায্যে জবরদখল এবং জমি বিক্রির এই আন্তর্জাতিক কায়দার জালিয়াতি মামলায় আগেই গ্রেফতার হয়েছেন শালবনির প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা ও পরবর্তীকালে সুমিত রায়। সম্প্রতি মেদিনীপুর আদালতে জমা দেওয়া সিআইডি-র চার্জশিটে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসায় শাসকদলের অন্দরে এবং রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, শালবনিতে কয়েকশো একর খাস ও সরকারি জমির চরিত্র বদলে সেগুলিকে হাতিয়ে নেওয়ার জন্য মূলত সক্রিয় ছিল সুজয় হাজরা ও সুমিত রায়ের একটি শক্তিশালী ‘নেক্সাস’ বা আঁতাত। সিআইডি সূত্রে খবর, মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা চার্জশিটে মোট ২০ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ বিষয় হল, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই প্রাক্তন পিএসও (PSO), স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান ও সুজয়ের নিজের গাড়ির চালক। ফলে এই বয়ানের ধাক্কায় সুমিত রায়ের আইনি লড়াই যে আরও কঠিন ও কোণঠাসা হতে চলেছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।

তদন্তকারীদের চার্জশিটের ছত্রে ছত্রে উঠে এসেছে চরম জালিয়াতির ছবি। জমির চুক্তিপত্রে উল্লিখিত একাধিক ঠিকানায় সরজমিনে হানা দিয়ে দেখা গেছে, সেই নামে আদতে কোন মানুষের অস্তিত্বই নেই! অর্থাৎ সম্পূর্ণ ভুয়ো ও অলীক নাম ব্যবহার করে সরকারি জমি কেনাবেচার জাল বোনা হয়েছিল। এর পাশাপাশি, প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার বাসভবনে অভিযান চালিয়ে সিআইডি উদ্ধার করেছে বিপুল পরিমাণ স্ট্যাম্প পেপার, একাধিক পাসবুক, চেকবুক এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের নামাঙ্কিত একাধিক রাবার স্ট্যাম্প। ফরেন্সিক পরীক্ষায় প্রমাণিত যে এই রাবার স্ট্যাম্পগুলি সম্পূর্ণ জাল এবং সরকারি দপ্তরকে ফাঁকি দিতেই তৈরি করা হয়েছিল।

সব মিলিয়ে শালবনি জমি কেলেঙ্কারি মামলায় বেআইনি নথি, রাবার স্ট্যাম্প ও কোটি টাকার বেনামি লেনদেনের যে জাল সিআইডি উন্মোচিত করেছে, তাতে সুমিত রায়ের ভূমিকা এখন প্রধান আতশকাঁচের নিচে। রাজ্য রাজনীতির এই নতুন মোড় আগামী দিনে শাসক শিবিরের জন্য কতটা অস্বস্তিকর হতে চলেছে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহলের বড় অংশ।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *