০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ দিল্লি Gurugram: বিচার চান সিয়া! গুরুগ্রাম-কাণ্ডে চালকের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ রুজু
দিল্লিভারতবর্ষভারতবর্ষ

Gurugram: বিচার চান সিয়া! গুরুগ্রাম-কাণ্ডে চালকের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ রুজু

Share
Gurugram: বিচার চান সিয়া! গুরুগ্রাম-কাণ্ডে চালকের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ রুজু
সিয়াকে এই ভাবে ধাক্কা মারার অভিযোগ। ছবি : এক্স
Share

নয়াদিল্লি ও গুরুগ্রাম: ভিআইপি রোড, চার চাকার দাপট এবং পথ নিরাপত্তার ভয়াল ছবি ফের ফুটে উঠল দিল্লির পাশেই গুরুগ্রামে। বাইকার তরুণীকে পিছন থেকে তীব্র গতিতে ধাক্কা মেরে চম্পট দেওয়ার অভিযোগে এবার ঘাতক গাড়িচালক কল্যাণ বৈঁসলার বিরুদ্ধে সরাসরি ‘খুনের চেষ্টা’র মামলা রুজু করল গুরুগ্রাম পুলিশ। 

প্রকাশ্যে আসা হাড়হিম করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, একটি দ্রুতগামী সাদা রঙের সেডান গাড়ি ডানদিকে ঘুরে সজোরে ধাক্কা মারে সিয়া নামে এক তরুণীর এপ্রিলিয়া ৪৫৭ স্পোর্টস বাইকে। স্ফুলিঙ্গ ছড়াতে ছড়াতে বেশ কিছুদূর স্কিড করে বাইকটি, রাস্তায় আছড়ে পড়েন সিয়া। 

কিন্তু গতি না কমিয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেন চালক। ঘটনার দু’দিন পর পুলিস সিসিটিভি এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অত্যন্ত কঠোর ‘খুনের চেষ্টা’র (Section 307) ধারা যুক্ত করেছে। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়ে গুরুগ্রাম পুলিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আইন ভাঙা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

এদিকে, মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সিয়া এক সাক্ষাৎকারে সরাসরি পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা ও প্রশাসনিক উদাসীনতা নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন তুলেছেন। সিয়ার ক্ষুব্ধ প্রশ্ন, “আইন ও বিচার ব্যবস্থা কি তবে কোনও বাইকারের মৃত্যু হওয়ার পর জাগ্রত হয়? কেবল ট্রাফিক পুলিশ বাইকের সাইলেন্সর বা এগজস্ট পরীক্ষা করে চালান কাটে, আর চার চাকার চালকরা এমন বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মানুষকে পিষে পালিয়ে গেলেও পুলিস ঘুমিয়ে থাকে?” 

অভিযুক্ত কল্যাণ বৈঁসলাকে কঠোর বার্তা দিয়ে সিয়া বলেন, “ভাবছ এক নারীকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে গেলেই পার পেয়ে যাবে? ভাবছ তুমি অপরাধীর মতো লুকিয়ে থাকবে আর বিচার অধরা থেকে যাবে? জেনে রেখো, গোটা বাইকিং কমিউনিটি আমার পাশে আছে। মহিলা বাইকারদের উপর যারা হ্যারাসমেন্ট বা অত্যাচার চালায়, তাদের এমন শিক্ষা দেব যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন দুঃসাহস না দেখায়। আমি শেষ পর্যন্ত লড়াই করব এবং দৃষ্টান্ত স্থাপন করব।”

অভিযুক্ত কল্যাণের দাবি ছিল, সিয়া নাকি সমাজমাধ্যমে ‘ভিউ’ বা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য এই নাটক করেছেন। এই মন্তব্যকে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে সিয়ার বাবা রোশন চৌহান বলেন, “অভিযুক্ত কল্যাণ সম্পূর্ণ মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিল এবং জেনেশুনেই আমার মেয়েকে ধাক্কা মারে। এখন নিজের অপরাধ ঢাকতে সমাজমাধ্যমের অজুহাত দিচ্ছে। ও চরম মিথ্যা কথা বলছে। পুলিস আসুক, আমরা বিবৃতি দেব এবং অভিযুক্তের উপযুক্ত শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্ত হব না।” 

সিয়া আরও স্পষ্ট জানান, ঘাতক গাড়ির কালো কাঁচ, লাল আলো ভাঙা এবং ইচ্ছে করে বাইককে কোণঠাসা করার সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণ সিসিটিভিতে বন্দী। গাড়িচালক কোনোভাবেই রেহাই পেতে পারে না। সব মিলিয়ে, ঘটনার দু’দিন কাটলেও প্রধান অভিযুক্ত অধরা থাকায় গুরুগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় ক্ষোভের পারদ চড়ছে। আন্তর্জাতিক মানের পথ নিরাপত্তা এবং মহিলা সুরক্ষার বড় বড় দাবির মাঝে এই হিট-অ্যান্ড-রান কান্ড প্রশাসনিক ব্যর্থতাকেই ফের প্রকাশ্যে এনে ফেলল।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *