০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ দিল্লি ১৩ বছরের যন্ত্রণার অবসান, চিরঘুমের দেশের প্রথম নিষ্কৃতিমৃত্যু বরণকারী হরিশ রানা!
দিল্লিবিশ্লেষণভারতবর্ষভারতবর্ষমুক্তমতসোশ্যাল মিডিয়া

১৩ বছরের যন্ত্রণার অবসান, চিরঘুমের দেশের প্রথম নিষ্কৃতিমৃত্যু বরণকারী হরিশ রানা!

Share
Share

নয়াদিল্লি: দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বিছানায় পড়ে থাকা এক ‘জীবন্ত মৃতদেহ’! যাঁর স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়ার। কিন্তু, এক দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছিল সবটা। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে চিরশান্তির দেশে পাড়ি দিলেন ৩২ বছর বয়সী হরিশ রাণা। ভারতের ইতিহাসে প্রথম নিষ্কৃতিমৃত্যুর (Passive Euthanasia) প্রয়োগে যন্ত্রণার অবসান ঘটল এই মেধাবী যুবকের।

[TECHTARANGA-POST:7556]

পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের টপার ছিলেন হরিশ রাণা। উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল যাঁর সামনে। কিন্তু, ২০১৩ সালে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলা থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর চোট পান তিনি। সেই থেকে দীর্ঘ ১৩ বছর কোমায় ছিলেন হরিশ। চিকিৎসকরা আগেই জানিয়েছিলেন, তাঁর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কৃত্রিমভাবে লাইফ সাপোর্টের মাধ্যমে তাঁর হৃদস্পন্দন টিকিয়ে রাখা হয়েছিল মাত্র।

[TECHTARANGA-POST:7553]

ছেলের এই অন্তহীন যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তাঁর অভিভাবকরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। চিকিৎসকদের বিস্তারিত রিপোর্ট পরীক্ষার পর বিচারপতি জে বি পরদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চ হরিশের ‘লাইফ সাপোর্ট’ খুলে ফেলার অনুমতি দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, যেখানে সুস্থ হওয়ার কোনও আশাই নেই, সেখানে কৃত্রিমভাবে এই যন্ত্রণা দীর্ঘায়িত করা অমানবিক। এই রায়ের মাধ্যমেই ভারতে নিষ্কৃতিমৃত্যুর আইনি প্রয়োগ এক নতুন মাত্রা পেল।

[TECHTARANGA-POST:7548]

হরিশের মৃত্যুর পর সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে তাঁর বাবা অশোক রাণা আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, “কোনও বাবা কি ছেলের এমন পরিণতি চায়? কিন্তু, ওর এই যন্ত্রণা আর সহ্য হচ্ছিল না।” ছেলের নিথর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে এক বাবার এই হাহাকার আজ গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:7545]

হরিশ রাণার প্রয়াণ কেবল একটি জীবনের অবসান নয়। বরং, ভারতে ‘সম্মানজনক মৃত্যু’ (Right to Die with Dignity) সংক্রান্ত আইনি বিতর্কে এক মাইলফলক হয়ে থাকল।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *