০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ কূটনীতি ‘৮৫০ নয়, ৫৪৩ আসনেই সংরক্ষণ দিন!’ মোদীর ‘আসন বৃদ্ধির চাল’ রুখে দিয়ে পালটা চ্যালেঞ্জ বিরোধীদের
কূটনীতিদিল্লিপশ্চিমবঙ্গভারতবর্ষ

‘৮৫০ নয়, ৫৪৩ আসনেই সংরক্ষণ দিন!’ মোদীর ‘আসন বৃদ্ধির চাল’ রুখে দিয়ে পালটা চ্যালেঞ্জ বিরোধীদের

Share
‘৮৫০ নয়, ৫৪৩ আসনেই সংরক্ষণ দিন!’ মোদীর ‘আসন বৃদ্ধির চাল’ রুখে দিয়ে পালটা চ্যালেঞ্জ বিরোধীদের
ছবি: সংগৃহীত
Share

নয়াদিল্লি: মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে লোকসভার আসনসংখ্যা বাড়িয়ে ‘বিজেপির একচেটিয়া রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা’ রুখে দিল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। শুক্রবার লোকসভায় প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় মোদী সরকারের ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি খারিজ হয়ে গিয়েছে। এই জয়ের পরেই আক্রমণাত্মক মেজাজে বিরোধীরা। তাদের সাফ কথা, “আগে আড়াই বছরের পুরনো আইন কার্যকর করুন!” লোকসভার আসন সংখ্যা না বাড়িয়ে বর্তমান পরিকাঠামোতেই অবিলম্বে মহিলাদের এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের দাবি তুলেছে বিরোধী শিবির।

[TECHTARANGA-POST:8130]

শনিবার বিরোধী জোটের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, “এটি ভারতীয় গণতন্ত্রের বড় জয়। ক্ষমতাসীন পক্ষের ষড়যন্ত্রে প্রথমবার জোরালো আঘাত লেগেছে।” বিরোধীদের অভিযোগ, বিলটি আসলে মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য নয়, বরং আসন পুনর্বিন্যাস বা ‘ডিলিমিটেশন’-এর মাধ্যমে উত্তর ভারতের হিন্দি বলয়ে আসন বাড়িয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার একটি কৌশল ছিল! প্রিয়াঙ্কার দাবি, ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগে ক্ষমতা ধরে রাখতেই এই ফন্দি এঁটেছিল বিজেপি।

[TECHTARANGA-POST:8114]

বিরোধীদের মূল দাবি হল, ২০২৩ সালেই ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ পাশ হয়েছিল। কিন্তু, কেন্দ্র সেই সময় শর্ত দেওয়া হয়েছিল – জনগণনা এবং আসন পুনর্বিন্যাসের পরই তা কার্যকর হবে। শনিবার বিরোধীরা কেন্দ্রের উপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করে জানিয়েছে, যেহেতু বৃহস্পতিবার থেকেই ১০৬তম সংবিধান সংশোধনী আইন কার্যকর হওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে, তাই আসন সংখ্যা ৫৪৩-এ সীমাবদ্ধ রেখেই মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত এক-তৃতীয়াংশ আসন অবিলম্বে চিহ্নিত করা হোক। জনগণনার জন্য অপেক্ষা করে কালক্ষেপ করার কোনও প্রয়োজন নেই।

[TECHTARANGA-POST:8097]

বিলটি পাশ না হওয়ায় বিজেপি নেতারা বিরোধীদের ‘মহিলাবিরোধী’ হিসাবে প্রচার করতে শুরু করেছেন। এর জবাবে বিরোধীদের যুক্তি, তারা সংরক্ষণের বিরোধী নয়। বরং, সংরক্ষণের নামে আসন বাড়িয়ে রাজনৈতিক কারচুপির বিরোধী। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সংসদে কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, বর্তমান খসড়ায় ওবিসি মহিলাদের জন্য কোনও স্পষ্ট নিশ্চয়তা নেই। তাঁর মতে, এই বিলের আসল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দেওয়া, মহিলাদের ক্ষমতায়ন নয়।

[TECHTARANGA-POST:8116]

তিনদিনের বিশেষ অধিবেশনে তিনটি বিল পাশ করানোর লক্ষ্য নিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু, প্রধান বিলটি – অর্থাৎ লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০ করার প্রস্তাবটি খারিজ হয়ে যাওয়ায় বাকি দুটি বিল নিয়েও আর ভোটাভুটির পথে হাঁটেনি সরকার। আপাতত মুলতুবি হয়ে গিয়েছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু বিধানসভা ভোটের আগে এই ইস্যুটিকে হাতিয়ার করেই এখন ময়দানে নামছে বিরোধী জোট।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *