০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বিশ্ব পেটের দায়ে কলিজার টুকরো বিক্রি! আফগানিস্তানে রুটির জন্য সন্তান বেচছেন বাবা-মায়েরা!
বিশ্ব

পেটের দায়ে কলিজার টুকরো বিক্রি! আফগানিস্তানে রুটির জন্য সন্তান বেচছেন বাবা-মায়েরা!

Share
পেটের দায়ে কলিজার টুকরো বিক্রি! আফগানিস্তানে রুটির জন্য সন্তান বেচছেন বাবা-মায়েরা!
প্রতীকী ছবি
Share

কাবুল: ক্ষুধার জ্বালা যে কত নিষ্ঠুর হতে পারে, তার এক শিউরে ওঠার মতো মর্মান্তিক বাস্তব চিত্র সামনে এল আফগানিস্তানে। চরম দারিদ্র, তীব্র অনাহার আর কর্মহীনতার জেরে বেঁচে থাকার তাগিদে নিজেদের শিশুসন্তানদেরই অন্য পরিবার বা বিত্তশালীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন আফগান বাবা-মায়েরা! ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’-র এক সাম্প্রতিক ও চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে তালিবানশাসিত আফগানিস্তানের এই ভয়াবহ সঙ্কটের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9267]

দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটে ভুগছে আফগানিস্তান। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে – কাজের সন্ধানে দিনের পর দিন হন্যে হয়ে ঘুরেও শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের। সবচেয়ে শোচনীয় দশা তৈরি হয়েছে সে দেশের ‘ঘোর’ প্রদেশে। সেখানে সাধারণ মানুষের ঘরে-ঘরে এখন দু’মুঠো অন্নের জন্যই হাহাকার তৈরি হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9167]

বিবিসি-র প্রতিবেদনে ঘোর প্রদেশের বাসিন্দা জুমা খান নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বলেছেন, “গত ছ’সপ্তাহের মধ্যে আমি মাত্র তিনদিন কাজ পেয়েছি। সেই কাজ থেকে সর্বসাকুল্যে আয় হয়েছে মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ আফগানি (যা ভারতীয় মুদ্রায় মাত্র ২৫০ থেকে ২৮০ টাকার মতো)।” এই সামান্য টাকা দিয়ে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়া কোনওভাবেই সম্ভব নয়।

[TECHTARANGA-POST:9244]

প্রদেশের আর এক বাসিন্দা জানান, তাঁর সন্তানরা টানা তিনদিন ধরে কার্যত কিচ্ছুটি না খেয়ে অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে! সামান্য গম কেনার জন্য প্রতিবেশীদের কাছে হাত পেতেও লাভ হচ্ছে না, কারণ সেখানে সবার অবস্থাই কম-বেশি এক। ঋণের বোঝায় জর্জরিত বহু পরিবার শেষমেশ চরমতম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

হৃদয়বিদারক এই পরিস্থিতির শিকার আব্দুল রশিদ আজিমি নামের এক আফগান পিতা। নিজের দুই কন্যাসন্তানকে অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। আব্দুল রশিদ আজিমির বুকফাটা আর্তনাদ, “আমার সন্তানরা ক্ষিধের জ্বালায় কাঁদছিল আর বলছিল — ‘বাবা কিছু রুটি দাও’। কিন্তু, আমার কাছে থাকলে তো দেব! একদিকে মাথায় ঋণের পাহাড়, অন্যদিকে ঘরে সন্তানদের অনাহার। তাই বুকে পাথর রেখে দুই সন্তানকে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হলাম। অন্তত এর বিনিময়ে যে টাকা পাব, তা দিয়ে আমার অন্য সন্তানেরা কয়েকটা দিন কিছু খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবে।”

[TECHTARANGA-POST:9172]

তালিবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে আফগানিস্তানের অর্থনীতি যেভাবে ভেঙে পড়েছে, তারই চরম খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের নিষ্পাপ শিশুদের। এই অমানবিক ও মর্মান্তিক পরিস্থিতি আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *