কলকাতা: বাংলায় ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর সরকার গঠন করলেও পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা ঘোষণা নিয়ে এখনই কোনও তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না পদ্মশিবির। বরং, ‘ধীরে চলো’ নীতিতে পরিস্থিতি সামলাতে চাইছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দিল্লির অলিন্দ থেকে আসা খবর অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ এবং বাকি মন্ত্রীদের নাম চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা ধাপে ধাপে এবং সময় নিয়েই করা হবে। এমনকী, প্রথম বিধানসভা অধিবেশন মিটে যাওয়ার পরই পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে বলে জোর জল্পনা।
[TECHTARANGA-POST:9269]
রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভায় ঠিক কাদের জায়গা দেওয়া হবে, তা নিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দিল্লিতে ইতিমধ্যেই একপ্রস্থ গোপন আলোচনা সেরেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। দলীয় সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও দিল্লিতে এই নিয়ে একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠক হতে চলেছে।
বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতার কথায়, “মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে এখনই তাড়াহুড়োর কোনও প্রয়োজন নেই। বিহারেও সরকার গঠনের বহু মাস পরে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী ও কয়েকজন মন্ত্রী দক্ষ হাতে প্রশাসনিক কাজ সামলাচ্ছেন।” সেই কারণেই আপাতত সীমিত মন্ত্রিসভা নিয়েই সরকার পরিচালনার পক্ষে সওয়াল করছে নেতৃত্বের একাংশ।
[TECHTARANGA-POST:9268]
এই সীমিত মন্ত্রিসভার আবহে সবচেয়ে বড় জল্পনা তৈরি হয়েছে আসন্ন বাজেট অধিবেশন ঘিরে। আগামী ১৮ জুন থেকে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। বিজেপির অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, এই মুহূর্তে অর্থ দফতরের পূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনও মন্ত্রী না থাকায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে পারেন। যদিও দলের শীর্ষ সূত্রের দাবি, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিলমোহর পড়তে এখনও কিছুটা সময় বাকি।
[TECHTARANGA-POST:9267]
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনে এই বিলম্বের নেপথ্যে রয়েছে দলীয় সংগঠন ও প্রশাসনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার এক গভীর রাজনৈতিক কৌশল। নতুন সরকারের কোন গোষ্ঠীকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং আঞ্চলিক সমীকরণ কীভাবে মেলানো হবে — সেই জটিল হিসেব কষেই অত্যন্ত সতর্কভাবে পা বাড়াতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব।
Leave a comment