০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ শিলিগুড়ি পৌঁছনোর আগেই সলিলসমাধি! দু’দিন পর তিস্তার গভীর গর্ভ থেকে উদ্ধার নিখোঁজ গাড়ি, ভিতরে শিশু-সহ ৪ জনের নিথর দেহ
ভারতবর্ষভ্রমণস্বাস্থ্য

শিলিগুড়ি পৌঁছনোর আগেই সলিলসমাধি! দু’দিন পর তিস্তার গভীর গর্ভ থেকে উদ্ধার নিখোঁজ গাড়ি, ভিতরে শিশু-সহ ৪ জনের নিথর দেহ

Share
শিলিগুড়ি পৌঁছনোর আগেই সলিলসমাধি! দু’দিন পর তিস্তার গভীর গর্ভ থেকে উদ্ধার নিখোঁজ গাড়ি, ভিতরে শিশু-সহ ৪ জনের নিথর দেহ
ছবি সংগৃহীত
Share

কালিম্পং: সিকিম থেকে শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া সেই হতভাগ্য পরিবারের শেষ রক্ষা আর হলো না। মাঝপথেই তিস্তা নদীর তীব্র গ্রাসে তলিয়ে গেল আস্ত একটি গাড়ি। টানা দু’দিনের রুদ্ধশ্বাস তল্লাশি অভিযান শেষে রবিবার করোনেশন সেতুর অদূরে তিস্তার গভীর গর্ভ থেকে উদ্ধার করা হলো নিখোঁজ সেই গাড়িটি। আর গাড়িটির দরজা খুলতেই ভেতরে দেখা গেল এক মর্মান্তিক দৃশ্য— এক নিষ্পাপ শিশু-সহ একই পরিবারের চার জনের নিথর দেহ আটকে রয়েছে সিটের সাথে। পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর প্রাথমিক অনুমান, শুক্রবার বিকেলের সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় পাহাড়ি ঝরনার হাড়হিম করা প্রবল স্রোতের তোড়েই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে ছিটকে সোজা তিস্তায় গিয়ে পড়েছিল গাড়িটি। এই বেদনাবিধুর ঘটনায় উত্তরবঙ্গ এবং সিকিম জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

[TECHTARANGA-POST:9804]

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম স্মারিকা নিউপানি, সায়োনি নিউপানি, টিকা মায়া দাহাল এবং শিশু দিত্যা ছেত্রী। তাঁরা সকলেই সিকিমের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের এক সদস্য দীর্ঘদিন ধরে শিলিগুড়ির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, মূলত তাঁকেই দেখতে এবং খোঁজখবর নিতে গত শুক্রবার সিকিম থেকে ভাড়া গাড়িতে চেপে শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন তাঁরা। নিহতের পরিবার জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল নাগাদ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে গাড়িটি যখন রোম্বি এলাকায় পৌঁছায়, তখন শেষবারের মতো তাঁদের সাথে মোবাইলে কথা হয়েছিল আত্মীয়দের। তারপর থেকে বারবার চেষ্টা করেও স্মারিকাদের ফোনে আর যোগাযোগ করা যায়নি। ফোনে না পেয়ে তীব্র উদ্বেগ নিয়ে শনিবার সকালেই সিকিম প্রশাসন ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের দ্বারস্থ হন স্বজনেরা।

[TECHTARANGA-POST:9784]

শুক্রবার বিকেল থেকেই উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় শুরু হয়েছিল মুষলধারে ভারী বৃষ্টি। স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃষ্টির জেরে সেবক এবং করোনেশন সেতুর মধ্যবর্তী একটি জায়গায় হঠাৎ করেই একটি পাহাড়ি ঝরনা রুদ্ররূপ ধারণ করে ফুলেফেঁপে ওঠে। জলের তীব্র স্রোতের সাথে পাহাড়ি রাস্তা জুড়ে নামতে শুরু করে ধস। তদন্তকারীদের অনুমান, ঠিক সেই মুহূর্তেই ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক পার করার সময় ঝরনার সেই সর্বনাশা জলের তোড়ে খড়কুটোর মতো ভেসে যায় গাড়িটি। 

[TECHTARANGA-POST:9754]

অভিযোগ পেয়ে শনিবার সকাল থেকেই কালিম্পং পুলিশ, সিকিম প্রশাসন এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (NDRF) জওয়ানেরা যৌথভাবে তিস্তার বুকে স্পিডবোট নিয়ে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেন। এনডিআরএফ-এর উত্তরবঙ্গের কমান্ডার অজয় কুমার জানান, রবিবার করোনেশন সেতুর কাছে তিস্তার জলস্তর থেকে নিখোঁজ গাড়িটির সন্ধান মেলে এবং ক্রেনের সাহায্যে সেটি জল থেকে তোলার পর ভিতর থেকে চার জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *