০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ অপরাধ ১৪০০ কিমি পেরিয়ে খোদ দিল্লিতে গিয়ে খুন! বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপিকা হত্যাকাণ্ডে বর্ধমান থেকে গ্রেফতার দম্পতি, নেপথ্যে কোন রহস্য?
অপরাধপশ্চিমবঙ্গ

১৪০০ কিমি পেরিয়ে খোদ দিল্লিতে গিয়ে খুন! বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপিকা হত্যাকাণ্ডে বর্ধমান থেকে গ্রেফতার দম্পতি, নেপথ্যে কোন রহস্য?

Share
১৪০০ কিমি পেরিয়ে খোদ দিল্লিতে গিয়ে খুন! বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপিকা হত্যাকাণ্ডে বর্ধমান থেকে গ্রেফতার দম্পতি, নেপথ্যে কোন রহস্য?
ছবি সংগৃহীত
Share

বর্ধমান: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে মাত্র তিন দিনের মাথায় এক চাঞ্চল্যকর মোড়। খোদ দেশের রাজধানী কাঁপানো এই খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লি পুলিশের যৌথ অভিযানে বর্ধমান থেকে গ্রেফতার করা হলো এক দম্পতিকে। অভিযোগ, কেবল সম্পত্তি কুক্ষিগত করার লোভে বর্ধমান থেকে সুদূর দিল্লির দূরত্ব অর্থাৎ প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই খুন করেছেন তাঁরা। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে এবং নিজেদের সাধারণ পর্যটক হিসেবে দেখাতে সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন নিজেদের সন্তানকেও। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ফুটেজ ও একটি গাড়ির চালককে জেরা করে অবশেষে এই খুনের রহস্যের কিনারা করল পুলিশ।

[TECHTARANGA-POST:9756]

গত বৃহস্পতিবার পূর্ব দিল্লির বসুধারা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্ল্যাট থেকে দেবস্মিতা পালের রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর দিদি দেবারতি বাইরে থেকে দরজা বন্ধ দেখে সন্দেহবশত তা ভেঙে ভিতরে ঢুকতেই মেঝেতে বোনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। দেবস্মিতার মাথায় গভীর ক্ষত থাকার পাশাপাশি হাতের শিরাও কাটা ছিল। ফ্ল্যাট থেকে কোনো টাকা বা গয়না চুরি না যাওয়ায় পুলিশ প্রথম থেকেই নিশ্চিত ছিল যে এর নেপথ্যে কোনো পরিচিত ব্যক্তি বা গভীর আক্রোশ রয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ অ্যাপার্টমেন্টের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে মাস্ক পরা এক দম্পতিকে সিঁড়ি দিয়ে দেবস্মিতার সাত তলার ফ্ল্যাটে উঠতে দেখে। প্রায় আধ ঘণ্টা ভিতরে থাকার পর পোশাক বদলে নিচে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ভাড়া গাড়িতে চড়ে তাঁরা চম্পট দেন। পরে ওই গাড়ির চালককে পাকড়াও করেই তদন্তকারীরা এই দম্পতির প্রথম সুত্র পান।

[TECHTARANGA-POST:9797]

মৃত দেবস্মিতা পাল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবাজী কলেজে অধ্যাপনা করতেন এবং ২০২২ সালে বিবাহবিচ্ছেদের পর পূর্ব দিল্লির ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, বর্ধমানে দেবস্মিতার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া একটি পৈতৃক বাড়ি রয়েছে, যেখানে অভিযুক্ত দম্পতি দীর্ঘ দিন ধরে ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করছিলেন। বেশ কিছুদিন ধরেই ওই বাড়িটি খালি করে দেওয়ার জন্য ভাড়াটেদের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন দেবস্মিতা। অন্যদিকে, ওই দম্পতি চতুরতার সাথে বাড়িটি নিজেদের নামে লিখিয়ে নেওয়ার তথা সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার এক হাড়হিম ছক কষছিলেন। সেই আক্রোশ ও লোভের বশবর্তী হয়েই খুনের অস্ত্র সাথে নিয়ে তাঁরা দিল্লি পৌঁছান এবং নিখুঁত পরিকল্পনায় অধ্যাপিকাকে খুন করেন।

[TECHTARANGA-POST:9789]

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা খুনের এই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশের ৭টি বিশেষ টিম গত দু’দিনে দেশের ৪টি রাজ্যে চষে বেড়ায়। সিসিটিভি ফুটেজ ঘেঁটে প্রায় ২০০ জন সন্দেহভাজনের তালিকা তৈরি করে ১৩ জনকে শর্টলিস্ট করা হয়, যার মধ্যে দেবস্মিতার প্রাক্তন স্বামীও রাডারে ছিলেন। অবশেষে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সাজিয়ে রবিবার বর্ধমানের ডেরা থেকেই ওই খুনে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে তাঁদের ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লি নিয়ে গিয়ে এই চক্রে আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা জানতে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *