০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ ‘বাদুড়ঝোলার দিন শেষ!’ ১৪ বছর পর রাজপথে ফিরল বাস, ঐতিহাসিক জয় খানাকুলবাসীর
পশ্চিমবঙ্গ

‘বাদুড়ঝোলার দিন শেষ!’ ১৪ বছর পর রাজপথে ফিরল বাস, ঐতিহাসিক জয় খানাকুলবাসীর

Share
‘বাদুড়ঝোলার দিন শেষ!’ ১৪ বছর পর রাজপথে ফিরল বাস, ঐতিহাসিক জয় খানাকুলবাসীর
ছবি সংগৃহীত
Share

খানাকুল: ঘড়ির কাঁটা উলটে গেল দীর্ঘ ১৪ বছর পর। তৃণমূল জমানার সেই চেনা ‘ট্রেকার সন্ত্রাস’ আর বাদুড়ঝোলার ঝুঁকি কাটিয়ে অবশেষে রাজপথে ফিরল যাত্রীবাহী বাস। দীর্ঘ দেড় দশক পর হুগলির খানাকুলের চব্বিশপুর থেকে তারকেশ্বর রুটে নতুন করে বাস পরিষেবা চালু হতেই খুশিতে আত্মহারা গোটা এলাকার মানুষ। বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করলেন পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ। সরকার বদলানোর পর তাঁরই ঐকান্তিক উদ্যোগে মঙ্গলবার থেকে চাকা গড়াল বাসের, যার জেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ নিত্যযাত্রীরা।

[TECHTARANGA-POST:10711]

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরই এই নির্দিষ্ট রুটে আচমকা ট্রেকারের দাপট চরম আকার ধারণ করে। শাসকদলের নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকা মাত্র ৭টি ট্রেকার রাতারাতি বেড়ে ২৬টি হয়ে যায়। ক্ষমতার জোরে ও বাসের সঙ্গে রেষারেষি করে এই রুটের সমস্ত যাত্রীবাহী বাস তুলে দিতে বাধ্য করে তারা। এর ফলে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে খানাকুলবাসীকে চরম ঝুঁকি নিয়ে ট্রেকারের ছাদে বসে কিংবা পাশে ঝুলে যাতায়াত করতে হতো। চব্বিশপুর এলাকাটি খানাকুল থানার অন্তর্গত হলেও এটি পুরশুড়া বিধানসভার অংশ। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারপর্বে এলাকার মানুষের এই চরম কষ্টের কথা শুনে বিজেপি প্রার্থী বিমান ঘোষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাঁর প্রথম কাজই হবে এই রুটে পুনরায় বাস চালু করা।

[TECHTARANGA-POST:10707]

রাজ্যে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর নিজের দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি ভোলেননি বিধায়ক বিমান ঘোষ। সম্প্রতি তাঁর উদ্যোগে হওয়া একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৭ জুলাই থেকেই বাস পরিষেবা চালুর দিন ধার্য হয়। সেইমতো মঙ্গলবার চব্বিশপুর বাজারে আরামবাগের এআরটিও এবং খানাকুল ১ নম্বর ব্লকের বিডিও-সহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিকের উপস্থিতিতে ধুমধাম করে এই পরিষেবার শুভ সূচনা করা হয়। বাস সংগঠনের প্রতিনিধি মুন্সী মহম্মদ মুসা জানান, আপাতত ২০-৩০ মিনিট অন্তর এই রুটে বাস চলাচল করবে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ৭৪ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা পরেশচন্দ্র বেরা আবেগঘন হয়ে বলেন, “সরকার পরিবর্তন হলো বলেই আজ আমাদের জীবদ্দশায় ফের বাসের মুখ দেখতে পেলাম। মেয়েদের পর্যন্ত ট্রেকারের ছাদে উঠতে হতো, সেই নরকযন্ত্রণা থেকে এবার মুক্তি মিলল।”

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *